বাংলাদেশের ‘কৃতিত্বের সিংহভাগ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়াসহ বাংলাদেশের 'কৃতিত্বের সিংহভাগেরই' অংশীদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Dec 2021, 05:11 PM
Updated : 3 Dec 2021, 05:11 PM

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিন বিকালের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, "বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি উল্লেখ করতে হবে।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না হলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠিত হত না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রভাষা বাংলার যে স্বীকৃতি, এটাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন, তাতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিল।

"আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছিল।"

মোজাম্মেল হক বলেন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান যদি না হত, তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও আরও অনেক পরে হত। এ গণঅভ্যুত্থানে এককভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

“তাই আমি মনে করি বাংলাদেশের সৃষ্টির যে আলোকবর্তিকা যেটা প্রজ্জ্বলিত হয়েছিল, সেই কৃতিত্বের সিংহভাগেরই অংশীদার আমাদের এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।"

সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, "আমাদের গবেষণা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জীবন মান পরিবর্তন ও চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিক্ষার যে বিষয়গুলো পরিবর্তন হচ্ছে, সেক্ষেত্রেও দৃষ্টি দিতে হবে এবং চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন আনতে হবে।

"আমাদের পড়ালেখা অবশ্যই জীবনমুখী ও জীবন ঘনিষ্ঠ হতে হবে। পাশাপাশি বাস্তবতার নিরিখে অবশ্যই কর্মমুখী শিক্ষা আমাদের আনতে হবে। এজন্য প্রতিনিয়ত আমাদের চিন্তা ভাবনার দরকার রয়েছে।"

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও অনারারি অধ্যাপক আতিউর রহমান বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি মেল্টিং পট। যেখানে আমরা সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এসে আধুনিক মনস্ক মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি বা বাঙালি হিসেবে গড়ে উঠেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমাদের ঋণের শেষ নেই।

“চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ সময়ে বিশ্বমানের জনসম্পদ তৈরির জন্য উন্নত মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলব আমরা সেই অঙ্গীকার করছি। সব অংশীজনের সহযোগিতায় কাক্ষিত উন্নয়ন অভিযাত্রায় নিশ্চয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা পালন করবে। প্রয়োজন বাড়তি মনোযোগ এবং বিনিয়োগের, সেই সক্ষমতা নিশ্চয়ই সরকার এবং অংশীজনদের আছে।"

সভায় অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ বক্তব্য দেন ।

গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এ অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক