১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকসু নির্বাচন: এক সপ্তাহ পরীক্ষা স্থগিতসহ ৬ দাবি প্রতিরোধ পর্ষদের

তন্ময়ের প্রার্থীতা বাতিল না করাকে ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ মনে করছেন জুবেল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2025, 05:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:11 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে এক সপ্তাহে সকল বিভাগের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাম ধারার সাত সংগঠনের প্যানেল প্রতিরোধ পর্ষদ। 

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরোধ পর্ষদ তরফে বলা হয়, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বা পরপরই পরীক্ষা থাকায় অনেকের নির্বাচনি কর্মকাণ্ড ‘ব্যাহত’ হচ্ছে।

সে কারণে ৫ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের সকল পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে কেবল ক্লাস চালু রাখা পক্ষে তারা।

প্রতিরোধ পর্ষদ মনে করছে, এর ফলে প্রার্থীরা পড়াশোনা ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হবেন না। আর ভোটাররা যথাযথভাবে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের সময় পাবেন।

এছাড়া অতীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা, বিভিন্ন অনিয়ম-অপাধে জড়িতদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিসহ অন্যান্য দাবি তুলে ধরেন প্রতিরোধ পর্ষদ থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী মোজাম্মেল হক।

তফসিল অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে সোমবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। মঙ্গলবার প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরোধ পর্ষদ থেকে এজিএস পদপ্রার্থী বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, “ছাত্রশিবিরের প্যানেলে জয়েনউদ্দিন সরকার তন্ময় নামের এক সদস্য প্রার্থী এ দেশের সূর্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে ফ্লাইট চোর বলে সম্বোধন করেছেন। পরে ছাত্রশিবির তাকে প্যানেল থেকে সরিয়ে নিয়েছে। 

“কিন্তু নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থীতা বাতিল করে নাই। এটা ডাকসুর গঠনতন্ত্রের স্পষ্ট লঙ্ঘন।” 

প্রতিরোধ পর্ষদের দাবিগুলো হল-

১. অপরাধে সম্পৃক্তদের প্রার্থিতা বাতিল 

>> যেসব ব্যক্তি অতীতে শিক্ষার্থী নিপীড়ন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলাসহ অন্যান্য ফৌজদারি অপরাধ বা গুরুতর অনিয়মে সম্পৃক্ত, তাদের প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে। 

এ পদক্ষেপ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে এবং একে মজবুত নৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাবে বলে মনে করছে এই প্যানেল।

২. ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি ও স্থানান্তর 

>> বর্তমান কেন্দ্রসংখ্যা সীমিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোগান্তির ‘আশঙ্কা’ তৈরি হয়েছে। তাই ভোটকেন্দ্র বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। 

>> আবাসিক হলগুলোর নিকটবর্তী ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে ভোট দিতে পারেন।

৩. পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত 

>> ৫ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সকল পরীক্ষা স্থগিত রেখে কেবল ক্লাস চালু রাখতে হবে। 

৪. আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন 

>> নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলিকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

>> ইতোমধ্যে কলা ভবনের সামনে মঞ্চ করে কুরআন বিতরণ, মিছিলের মাধ্যমে ফরম তোলা, ফরম উত্তোলনে বাধা দেওয়া, নিয়ম ভঙ্গ করে বিলবোর্ড/ব্যানার প্রদর্শন, বিভিন্ন হল বা মসজিদে প্রচারণা ইত্যাদি ঘটনা ঘটেছে। 

>> এসব বিষয়ে প্রশাসনের আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখা জরুরি।

৫. ব্যালটে ছবি সংযুক্তকরণ 

>> ভোটারদের সুবিধার্থে প্রার্থীদের নামের পাশে তাদের ছবি সংযুক্ত করতে হবে, যাতে বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে।

৬. ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করা 

>> অনেকের জন্যে স্বল্প সময়ে হল কার্ড করা বা কার্ড নবায়ন করা কষ্টসাধ্য। তাই ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বৈধ ডকুমেন্ট থাকার ভিত্তিতে ভোটদানের ব্যবস্থা করা দরকার।

আগের খবর:

ডাকসু নির্বাচন: 'প্রতিরোধ পর্ষদনামে লড়বে ৭ বাম সংগঠন

ডাকসু নির্বাচনইমি ও মেঘমল্লারের নেতৃত্বে লড়বে বামরা