Published : 24 Sep 2025, 10:03 PM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে আরও ‘কার্যকর ও সময়োপযোগী’ করতে নয়টি নতুন সম্পাদকীয় পদ সংযোজনের প্রস্তাব দিয়েছে ছাত্রদল।
উপাচার্যের অনুপস্থিতে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শেখ গিয়াস উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমিনের কাছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়।
সেখানে বলা হয়েছে, জকসু নির্বাচনের বর্তমান কাঠামোতে কিছু ‘অসঙ্গতি’ রয়েছে, যা ছাত্র সংসদের সুষ্ঠু পরিচালনার ‘অন্তরায়’। এসব বিবেচনায় তারা নয়টি নতুন পদ যুক্ত করার প্রস্তাব রাখছে।
পদগুলো হলো
১. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক
২. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী সম্পাদক
৩. মিডিয়া ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক
৪. সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক
৫. দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক
৬. আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক
৭. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক
৮. পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক
৯. মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক
এছাড়া ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ‘অর্থ সম্পাদক’ পদটি বাতিল করে শুধু ‘কোষাধ্যক্ষ’ পদ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
তাদের মতে, এই দুটি পদ একসঙ্গে রাখলে তা ‘পুনরাবৃত্তি ও সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব’ তৈরি করতে পারে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদের পরিবর্তে তারা সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) করার দাবি জানিয়েছে।
এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানায় সংগঠনটি।
রাজনৈতিক কারণে যেসব শিক্ষার্থী অনার্স বা মাস্টার্স শেষ করতে পারেননি, তাদের বিষয়টি বিবেচনায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে বিএনপির এ সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বেলায় ৬ বছর এবং বিশেষ প্রয়োজনে ৮ বছর করতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে অনার্স বা মাস্টার্স শেষ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সেই মেয়াদ বৃদ্ধির সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও পূর্ণাঙ্গ খসড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
ছাত্রদল বলছে, জকসু যেন শুধু প্রশাসনিক নয়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৬৯ ও ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মত ঐতিহাসিক ঘটনা শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরার দায়িত্বও জকসু পালন করে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মত জকসু আয়োজন করছে প্রশাসন তাই তারা খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করেছে। আমরা সেখানে লক্ষ্য করেছি, কিছু সংশোধন প্রয়োজন। অতীব গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সম্পাদকীয় পদ সহ কয়েকটি পরিবর্তনের প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। আশা করছি সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।”
জকসু নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন কমিটির সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদের প্রস্তাব কমিটির পরবর্তী মিটিংয়ে উত্থাপন করা হবে। তারা বিবেচনা করলে সংশোধন আসবে।”
আগামী ২৭ নভেম্বর ভোটের তারিখ রেখে ১৭ সেপ্টেম্বর জকসু নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।
নির্বাচন কমিশন গঠন ও ভোট গ্রহণের তারিখ ছাড়া নির্বাচনের অন্য আনুষ্ঠানিকতার সম্ভাব্য তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
জকসুর কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নীতিমালা ও আচরণ বিধি প্রনয়ন, তফসিল ঘোষণা, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটার তালিকা সংশোধন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়ন জমা দান, মনোনয়ন বাছাই, মনোনয়নে আপত্তি (যদি থাকে) নিষ্পত্তিকরণ, চূড়ান্তপ্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রার্থীদের প্রচার–এসব নির্বাচন কমিশন গঠনের পর তারাই নির্ধারণ করবে।
নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করলেও ছাত্রসংসদ নির্বাচনের নীতিমালা এখনো পাস হয়নি। নীতিমালা অনুমোদন হওয়ার পর তা ইউজিসি, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের ধাপ পার হয়ে আইনি রূপ পাবে।
জগন্নাথ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার আগে কলেজ থাকাকালে মোট ১৪ বার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। তার মধ্যে সর্বপ্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫৪-৫৫ শিক্ষাবর্ষে। সবশেষ ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন মো. আলমগীর সিকদার লোটন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর সিকদার জোটন।
এরপর ২০০৫ সালে কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫’ এ ছাত্র সংসদ সম্পর্কিত কোনো ধারা না থাকায় প্রতিষ্ঠার পর একবারও জকসু নির্বাচন হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বহুবার নির্বাচন দাবি করলেও এই ‘আইনি জটিলতার’ কারণে তা আয়োজন করা যায়নি।