১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

উপাচার্য দিতে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

কোনো উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 09:18 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

বর্তমান সরকারের সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের দায়িত্ব দিতে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি বলে জাতীয় সংসদে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসরণ করে জ্যেষ্ঠতা, একাডেমিক যোগ্যতা, শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

কোনো উপাচার্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

নূরুল ইসলাম তার লিখিত প্রশ্নে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের প্রায় অর্ধশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা, উচ্চতর একাডেমিক যোগ্যতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে নিরপেক্ষ শিক্ষা প্রশাসন পরিচালনা, ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তার অভিযোগ।

এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা, উচ্চতর একাডেমিক যোগ্যতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এ বক্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়।”

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের বিধান অনুসরণ করে প্রার্থীর জ্যেষ্ঠতা, উচ্চতর একাডেমিক যোগ্যতা, শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং একাডেমিক নেতৃত্বের সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়েছে।

“নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।” 

তিনি বলেন, সরকার মনে করে, উপাচার্যের দায়িত্ব একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনে নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের অধিকার রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়মিত নিরীক্ষা ও জবাবদিহি জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।