১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকসু নির্বাচন: ছাত্রী হলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধার অভিযোগ ছাত্রদলের

‘মবকারীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতের দাবি করেছে সংগঠনটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2025, 10:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:36 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় ‘মব’ তৈরি করে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

সোমবার হলের ‘নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের’ উপস্থিতিতে আগ্রহী প্রার্থীরা ফরম সংগ্রহ করতে পারেননি অভিযোগ করে ছাত্রদলের নেতারা ‘মবকারীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

তবে কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে কি না তা স্পষ্ট করেননি সংগঠনটির নেতারা।  

সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস লিখিত বক্তব্যে ফরম তুলতে বাধা দেওয়াসহ হামলার চেষ্টা করার অভিযোগ করেন।

এদিকে ছাত্রদলের এমন অভিযোগের ঘণ্টা কয়েক পর রাতে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় এক দিন বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ অন্য নেতাদের পাশে নিয়ে লিখিত বক্তব্যে গণেশ চন্দ্র বলেন, “ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ ও নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকার পরও গণতন্ত্র ও শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষিত তফসিল অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নেতাকর্মীকে যথানিয়মে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করি।

”সেই নির্দেশনা অনুসারে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজ হল সংসদের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে ফরম সংগ্রহ করতে গেলে আমাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী প্রশাসনের ভূমিকা পালন করা একদল শিক্ষার্থী আমাদের সকল আশঙ্কাকে বাস্তব প্রমাণ করে একটি বিশৃঙ্খল মব সৃষ্টি করে তাদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে এবং মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করে।”

তার অভিযোগ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই হলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়োজিত কর্মকর্তারা উপস্থিত হলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হন। এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে না পেরে হল থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন।

”ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং এহেন নৈরাজ্যবাদী মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে অনীহার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ডাকসু নির্বাচনের জন্য অত্যাবশ্যক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব যে কতোটা প্রকট আজ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে সেটিই প্রতীয়মান হয়েছে।”

তিনি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার বিরুদ্ধে আইন ও নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসারে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির দাবিও করেন তিনি।

আরও পড়ুন:

ডাকসু নির্বাচন২৮ পদে লড়তে চান ৫৬৫ জন