Published : 12 Aug 2026, 11:18 AM
এবার বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা উচ্চশিক্ষায় বৈষম্যকে উসকে দেবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।
এ সিদ্ধান্তের ফলে ইংরেজি পাঠ্যক্রমের বাজার লাভবান হবে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
আবার ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র হলে মাদ্রাসা বা কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেন নয়, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
গত ২ অগাস্ট ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সূচি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সেদিন সাধারণ ভর্তি কমিটির সভার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।”
আলাদা প্রশ্নপত্র করার সিদ্ধান্ত হলেও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের আবেদনের যোগ্যতা কী হবে কিংবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো নীতিমালা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আবদুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন পর্যন্ত শুধু আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো মিটিং হয়নি; কোনো নীতিমালাও হয়নি; আস্তে আস্তে সব হবে।”
এখন পর্যন্ত কোনো নীতিমালা না হওয়ার কথা বলেছেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য অধ্যাপক উপমা কবির।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটা আমাদের জানিয়েছে। বুধবার হয়ত আমাদের মিটিং হতে পারে। সেখানে হয়ত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।”
নীতিমালা তৈরির আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশ্ন তো অবশ্যই উঠবে। তবে সেটার উত্তর নিশ্চয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে থাকবে।”
কোনো নীতিমালা ছাড়া নতুন এ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। এটার নীতিমালা প্রণয়ন করবে ভর্তি কমিটি। আর, আমাদের বর্তমান যে নীতিমালা আছে, এটাও সেভাবে হবে।"
দুটি প্রশ্নকে কীভাবে সমমান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, " এটা ভর্তি পরীক্ষা কমিটি ঠিক করবে। তারা বৈষম্য যেন না হয়, সেভাবে প্রশ্ন তৈরি করবেন নিশ্চয়। আর এ সিদ্ধান্ত বৈষম্য দূর করার জন্যই নেওয়া হয়েছে, বৈষম্য তৈরি করার জন্য নয়।”
একটা পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে হলে বৈষম্য সৃষ্টি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এখানে কোনো বৈষম্য হবে বলে মনে করি না।"
এক্ষেত্রে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কেন আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হবে না জানতে চাইলে এ অধ্যাপক বলেন, "এটা তো মিটিংয়ে আলোচনায় আসেনি। যদি সামনে আলোচনায় আসে, তখন সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।"
সিদ্ধান্ত নিতে নিয়মের ব্যত্যয়!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়ে নতুন নিয়ম প্রণয়নের প্রধান ফোরাম হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভর্তি কমিটির সাধারণ সভায় ২ আগস্ট এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেটাকে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক উপ-উপাচার্য বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটা প্রথমে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা হবে। সেখান থেকে সেটা পাস হলে তারপর ভর্তি কমিটির সভায় সেটার পদ্ধতি নিয়ে আলাপ করবে। একাডেমিক কমিটির সুপারিশ ছাড়া এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র বডি হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। সেখানে আলোচনা ছাড়া কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সাধারণ ভর্তি কমিটি, যারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ভালো বলতে পারবে।”
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, “গত ডিনস কমিটির মিটিংয়ে এ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ আসে। পরে একাডেমিক কমিটি থেকে তা চূড়ান্ত হয়ে আসে।”
ডিনস কমিটি নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ মোতাবেক কোনো কমিটির কথা বলা নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যারা ডিনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ নির্বাচিত নন। এ অবস্থায় তারা সুপারিশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুস সালামের ব্যাখ্যা হলো, “ডিনস কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। আমরা সে অনুযায়ী নিয়েছি।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া, পরীক্ষা ও শিক্ষার মান কেমন হবে— তা নিয়ন্ত্রণ, দেখভাল এবং এ বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দেওয়ার জন্যই একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হয়।
অধ্যাদেশের ৩য় খণ্ডের ২ নম্বর ধারায় সাধারণ ভর্তি কমিটির কাজের বিষয়ে বলা হয়েছে, ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করার একটা কমিটি, যা মূলত একাডেমিক কাউন্সিল দ্বারা গঠিত।
এক্ষেত্রে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা ছাড়া এরকম নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, "এটা একাডেমিক কাউন্সিলে যাবে। সেখান থেকে পাস হয়ে আসবে।"
এক্ষেত্রে একাডেমিক কমিটিতে যাওয়ার আগে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া হয়েছে সেটা নিয়মের ব্যত্যয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নিয়মের ব্যত্যয় হওয়ার আগে কিছু কিছু বিষয়, যেটা সময় ও অন্যান্য বিবেচনা করেও করা যেতে পারে, যা পরে একাডেমিক কাউন্সিলে সম্পূরক অনুমোদন নেওয়া যায়।"
যা বলছেন বিজ্ঞরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ১০ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
তাদের ভাষ্য, ভর্তি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো নিয়ম সংযোজন বা বিয়োজন করতে হলে দুই থেকে তিন বছর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়; তারপর সেই নিয়ম বা নীতি যুক্ত করা যায়। নয়ত নতুন নিয়ম নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এবার ভর্তি পরীক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিষয়ে আমাদের একাডেমিক কমিটিতে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে আমরা আলাদা না করে ন্যাশনাল ও ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যক্রমকে সমন্বয় করে পরীক্ষা নিতে বলেছি। তা না করলে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।
“একটা পরীক্ষা আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে সেখানে সমান প্রতিযোগিতা ও প্রশ্নের মানকে সমমান করা সম্ভব হয় না। এটা আমাদের বিভাগের সর্বসম্মত সুপারিশ ছিল। তবে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা একাডেমিক কাউন্সিল।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “একটি পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে কেউ কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন। কারণ, একটা পরীক্ষার দুটি প্রশ্নপত্রে সবসময় বৈষম্যের আশঙ্কা থেকে যায়।”
এই অধ্যাপকের পরামর্শ হলো, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী যা যা শেখে, তার ভিত্তি করে একটা ব্যাসিক প্রশ্নপত্র করতে পারে। সেটা হলে কেউ বঞ্চিত হবে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, “আমরা নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এখন পলিসির উপরেই নির্ভর করবে এ পরীক্ষা বৈষম্য সৃষ্টি করবে, নাকি সাম্য প্রতিষ্ঠা করবে।”
নতুন এ সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করেন আবদুল্লাহ জামান, যিনি ইংরেজি মাধ্যমের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ।
সম্প্রতি প্রথম আলোতে এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, “আমি নিজেই দুটি আন্তর্জাতিক (ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় পরিচালনা করি। বাস্তবতা হলো, ইংরেজি মাধ্যমের জন্য যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা সুবিধা সৃষ্টি করে, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে সেটি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হতে পারে। আরও বেশি অভিভাবক ইংরেজি মাধ্যমের দিকে ঝুঁকবেন, শিক্ষার্থী বাড়বে, বাজার সম্প্রসারণ হবে।
“কিন্তু দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় বলে মনে করি। যে নীতি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হলেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেই নীতিকে সমর্থন করা নৈতিকভাবে সঠিক নয়।”
তার মতে, এটি উচ্চশিক্ষায় একক একাডেমিক মানদণ্ড ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: পৃথক প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষার জন্য কী বার্তা দেবে’ শিরোনামের এ নিবন্ধে তিনি লেখেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের পাঠ্যবই পরীক্ষা করে না। এটি প্রার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ধারণাগত দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা এবং উচ্চশিক্ষার উপযোগিতা যাচাই করে।
“সুতরাং প্রশ্ন হওয়া উচিত—‘কোন বোর্ডে পড়েছ?’ নয়; বরং ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছ কি না?’ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মানদণ্ড এক হয়, তবে মূল্যায়নের মানদণ্ডও এক হওয়া উচিত।”
আবদুল্লাহ জামান মনে করেন, “আজ যদি ইংরেজি মাধ্যমের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র হয়, আগামীকাল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডও একই দাবি করবে। তাদের যুক্তিও হবে,‘আমাদের পাঠ্যক্রম আলাদা।’ এরপর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একই দাবি তুলবে।”
যা বলছেন শিক্ষার্থী-অভিভাকরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অবশ্যই সবাইকে সুযোগ দেয়া উচিত। তবে আলাদা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সেটা নিশ্চিত করবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসির শিক্ষার্থী তন্ময় আহমদ বলেন, “ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের প্রান্তিক ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। কিন্তু কাউকে এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বৈষম্য। “উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সব পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এক। ইংরেজি মাধ্যমের এমন কোনো শিক্ষার্থী নেই, যারা বাংলা মিডিয়ামের প্রশ্ন উত্তর দিতে পারবে না। এক্ষেত্রে তাদের যেহেতু ভাষাগত সমস্যা আছে, সেক্ষত্রে ইংরেজি ভাষায় প্রশ্নপত্র হতে পারে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ রাফী বলেন, "এক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে পাঁচ হাজার, আরেকটায় দেড় লাখ। এখানে কীভাবে সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে? বরং এটা হলে দেখা যাবে ইংরেজি মাধ্যম থেকে ভর্তি হবে এক হাজার; আর বাংলা মাধ্যম থেকে ৫০০। তাহলে বৈষম্য আরও উসকে দেওয়া হবে।"
উত্তরার এক এইচএসসি শিক্ষার্থীর মা সৈয়দা রেজাউন্নাহার শিফন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের পাঠ্যক্রম থেকে লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ পাওয়া উচিত।
“তবে বর্তমানে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার, তাতে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আমি মনে করি।”