Published : 16 Nov 2025, 06:50 PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ-শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ‘সহিংস কার্যক্রমের’ সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করে নির্বাচন চেয়েছে ছাত্রদল।
রোববার বেলা ১২টার দিকে চার দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর হাতে তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা।
দাবিগুলো হলো-
১. শাকসু নির্বাচন ঘোষণার পর ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র ব্যানারে নিয়মবহির্ভূত ও অগণতান্ত্রিক উপায়ে সহিংস কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ঘটনাপ্রবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশের বিপরীতে এক অশুভ পরিস্থিতির সূচনা করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অযৌক্তিকভাবে প্রভাবিত ও ব্যাহত করার উদ্দেশে এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. সহিংস বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত সকলকে শাস্তির আওতায় আনার পর নির্বাচনের তারিখের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। একতরফাভাবে কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ কিংবা মব সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত কাউকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া যাবে না।
৩. ১০ মাস ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি স্থগিত থাকায় সব ক্রিয়াশীল সংগঠন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আংশিকভাবে ছাত্ররাজনীতি উন্মুক্ত করেছে। আমরা চাই, সকল রাজনৈতিক সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যৌক্তিক সময় নির্ধারণ করে ছাত্রসংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হোক।
৪. নির্বাচনের তারিখ ঠিক করার ক্ষেত্রে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি আমলে নিতে হবে। শাকসু নির্বাচনকে ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল যেন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার সুযোগ না পায়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী ‘মবতন্ত্র’ কায়েম করে দাবি আদায় লিপ্ত হয়েছে। যারা ‘মবতন্ত্র’ কায়েমের মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম করছে, ছাত্রদল তাদের বিচার প্রত্যাশা করে।
“যদি এইভাবে ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথরুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে শাকসু নির্বাচন আয়োজন করা হোক।”
ছাত্রদলের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে আইনের শাসন, ন্যায়সংগত রাজনৈতিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক বিকাশকে নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা নাঈম সরকারের।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, “শাবি ছাত্রদল সবসময় নির্বাচনমুখী। কিন্তু শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস কর্মকাণ্ড এবং ছাত্রদলকে মিথ্যা দোষারোপ করে মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার করা হচ্ছে।
“একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে দাবি আদায় করে নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করতে পারি? এজন্য প্রশাসনের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, ছাত্রদলের চার দফা দাবি পূরণ করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করুক।”
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে শাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী।
তবে ঘোষিত ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ প্রত্যাখান করে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, প্রত্যাখান করে শিক্ষার্থীদের অবস্থান