শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, প্রত্যাখান করে শিক্ষার্থীদের অবস্থান
রাতে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।
তবে নির্বাচনের তারিখ প্রত্যাখান করে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী।
এ সময় তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২৭ বছর পর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শাকসু নির্বাচন হচ্ছে। এতে আমাদের সব শিক্ষার্থী খুশি হওয়ার কথা। ১৭ ডিসেম্বর হচ্ছে নির্বাচনের জন্য একটা চমৎকার তারিখ। এর থেকে ভাল তারিখ আমরা পাচ্ছি না। তাই এ দিনেই আমরা শাকসুর আয়োজন করতে যাচ্ছি।”
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন, শাকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেস, কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
শাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেস বলেন, “ভোটার তালিকা প্রণয়ন কাজ চলতেছে। উপাচার্য তারিখ ঘোষণা করেছে, এটা ওনাদের দায়িত্ব ছিল। এখন যাবতীয় রোডম্যাপ সম্পন্ন করে আমরা নির্বাচন কমিশন আগামী ২১ দিনের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করব।”
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “এখন খসড়া ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ চলতেছে। এরপর আমরা ধাপে ধাপে নির্বাচনের দিকে যাব। আগামী ২১ দিনের মধ্যে বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে আমরা নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করব। আমরা নির্বাচন কমিশন সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম আছি।”
এদিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের ঘোষণা শুনতে পেয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তারা ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ প্রত্যাখান করে প্রশাসনিক ভবনের তালা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে ভবনের ভিতর এখনো অবস্থান করছেন উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, “প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন আগামী ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আমরা মনে করি, এ তারিখে নির্বাচন হলে প্রহসনের নির্বাচন হবে। কারণ এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে থাকবে না। শীতের ছুটিতে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে চলে যাবে, ছুটি কাটাবে। তাই এ সিদ্ধান্ত প্রশাসনের প্রহসনের সিদ্ধান্ত। আমরা প্রশাসনের ঘোষণাকে প্রত্যাখান করি।
“আমরা চাই, ৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই শাকসু নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এতে এ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, “গতকাল উপাচার্য আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, ৯ বা ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই শাকসু নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, ৮ বা ৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। কিন্তু প্রশাসন আজকে সন্ধ্যার দিকে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে ছাত্রদলের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সভা করে। আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, আপনারা ছাত্রদলের প্রেসক্রিপশনে নির্বাচনের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছেন কিনা?
“কারণ, ওই সময়ে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরা অনেকেই বাসায় চলে যাবে। এজন্য ৮ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। নতুবা আমরা আজকে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিতে বাধ্য হব।”
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘শাকসু নিয়ে তালবাহানা, চলবে না-চলবে না’, ‘লাগারে লাগা, তালা লাগা’, ‘শাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার?’, ’২৪-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠো আরেকবার’, ‘শাকসু চাই- দিতে হবে, নইলে গতি ছাড়তে হবে’, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাত, ভেঙে দাও-গুড়িয়ে দাও’ বলে স্লোগান দেন।
