Published : 04 Dec 2025, 12:38 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনকে বিজয়ের মাস উদযাপন করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্রশক্তি।
বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, “বিজয়ের মাস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এটি প্রতিবছর করে আসছে এবং হলগুলোতে আমরা দেখেছি যে উৎসব মুখর পরিবেশ থাকে।
“হলগুলোতে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা থাকে, ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। সে ধরনের পরিকল্পনাগুলো হোক।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সচেতন করার জন্য যে পদক্ষেপগুলো থাকে, যে ধরনের কর্মসূচি থাকে, সে ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নেওয়া হোক।”
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “বিজয়ের মাস উদযাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলা এবং প্রশ্নবিদ্ধ ডাকসুর বিতর্কিত প্রতিনিধির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলাভবন, কার্জন হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়। ডিসেম্বর উদযাপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ ঐতিহ্য হলেও এবার তা একেবারেই করা হচ্ছে না বলে দেখা গেছে।”
গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদল ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে।
গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদ্দাসসির বলেন, “আমরা দেখেছি যে ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হচ্ছে, সেটার জন্য অবশ্যই তাদেরকে বলব যে, তারা যেন নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চায়।”
অন্যদিকে ছাত্রদল বলেছে, “সম্প্রতি প্রশ্নবিদ্ধ ডাকসুর বিতর্কিত মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে যে বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন, তা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার মাধ্যমে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাঙ্খাকে ভুলুণ্ঠিত করেছে।”
গত ১ ডিসেম্বর এক পোস্টে তাসনিম জুমা লেখেন, “বিজয়ের সুখ উপভোগের আগেই দুর্ভাগা এই অঞ্চলে আবারও নেমে আসে শাসন নামে শোষণের অন্ধকার। সেখান থেকেই বাংলা ও বাঙালির রাষ্ট্র-আকাঙ্ক্ষার জন্ম। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা হয়। ‘সহস্র’ শহিদের রক্ত, সহস্র বোনের সম্মানের বিনিময়ে অর্জিত হলো বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ড। আমাদের শহিদেরা আমাদের দিয়ে গেলেন একটুকরো লাল সবুজের পতাকা, নতুন নিজস্ব একান্ত ভূমি, দেশ, জাতীয়তা।”