Published : 19 Sep 2024, 05:03 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সব আবাসিক, অনাবাসিক ও দ্বৈতাবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে থাকার সময়ে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
পরিচয়পত্র কোনো কারণে হারিয়ে গেলে উপযুক্ত প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসকে বহিরাগত মুক্ত করার পরিকল্পনায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে বহিরাগতমুক্ত করার লক্ষ্যে অতি দ্রুত ক্যাম্পাসে অভিযান পরিচালিত হবে। সে লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে অবস্থানকালীন প্রত্যেকে শিক্ষার্থীকে তাদের নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ করা যাচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে তাদের উপযুক্ত প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন কার্ড বহনের বিষয়ে সচেতন হয়, সেটা নিশ্চিত করার জন্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
তিনি বলেন, "আমাদের ক্যাম্পাসে অনেকে শিক্ষার্থী পরিচয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায়। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতকে তো আলাদা করতে হবে আমাদের।
“বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাটা অত্যন্ত জরুরি। তারা এখন অনেকে বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করে। তারা সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাসে চলাচল করে। তাদের নিরাপত্তার জন্যে এটা জরুরি।"
অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকেও কার্ডের আওতায় আনা হবে।
কয়েকদিন ধরে সোশাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাবেক শিক্ষার্থীদের বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই বিষয়ে অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, "সাবেক শিক্ষার্থীরা অবশ্যই ক্যাম্পাসে আসবেন। তাদেরকে স্বাগত জানাই। তবে যদি এখানে শৃঙ্খলাবহির্ভূত কাজ করে থাকে, তখন তিনি সাবেক বা বর্তমান যাই হন না কেন- তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।"
তবে কার্জন হলের ব্যাপার ‘একটু ভিন্ন’ মন্তব্য করে অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “এখানে একজনকে ধরা হয়েছিল যিনি ভুয়া কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করেছিল কার্জন হলে। এখাকার বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ করার জন্যেই এ ব্যবস্থা।"

মিশ্র প্রতিক্রিয়া
কার্জন হলে প্রবেশে বিধিনিষেধের বিষয়ে সাবেক শিক্ষার্থীরা বলছেন, যেহেতু তাদের কাছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিচয়পত্র নেই, তাই তাদেরকে বহিরাগত হিসেবেই ধরা করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৫-২০০৬ সেশনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. ফারুক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরি করছেন। বিভিন্ন কাজে ঢাকায় আসলে আমরা নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটিবারের জন্যে হলেও যাই। প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে বিষয়টি বিবেচনায় রাখার জন্যে।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-২০১৭ সেশনের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সালমান রহমান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধু সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চায়, সেক্ষেত্রে যে অবকাঠামো ও জনশক্তি দরকার তা প্রশাসনের নেই, এটি দৃশ্যমান। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাসে জনে জনে গিয়ে সাবেক কিংবা বর্তমান শিক্ষার্থী যাচাই করা শ্রমসাধ্য সময়সাপেক্ষ এবং বাস্তবসম্মত নয়।"
তিনি বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মেট্রোস্টেশন, বাংলা একাডেমি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং অদূরেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হওয়ায় এই এলাকায় জনসমাগম বেশি।
“সেখানে বহিরাগত যাচাই করবে কীভাবে? তাই প্রশাসন যদি ক্যাম্পাসকে বহিরাগত মুক্ত করতে চায়, সেক্ষেত্রে তাদেরকে আরো যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। না হলে অতীতের মত ভবিষ্যতেও বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস বাস্তবে রূপ নেবে না।"
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র বহনের নির্দেশনায় সাধুবাদ জানিয়েছেন কেউ কেউ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তামিম আল রাজী বিডিনিউজ ডটকমকে বলেন, "কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। একজন শিক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে আইডি কার্ড রাখতে বলা যৌক্তিক। এখন এটা কতটুকু কার্যকর হবে সেটা সময়ই বলে দেবে।
"আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাই, ক্যাম্পাস বহিরাগতমুক্ত হোক, এজন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে যথাসাধ্য সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি।"
পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার বিষয়ে সমর্থন আছে ব্যাবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শুভ সাহার।
তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা ফিরাতে কার্ড পাঞ্চ সিস্টেম চালু করা হোক।"