Published : 18 Dec 2025, 02:46 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বন্য শূকর শিকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বাঁশের সঙ্গে তীক্ষ্ণ লোহার রড বেঁধে শিকারীরা একটি বন্য শূকরকে আঘাত করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী শ্যামল বড়ুয়া বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি আলাওল হলের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে এসে বিপরীত পাশের পাহাড়ি এলাকায় কলাবাগানের দিকে হইচই লক্ষ্য করেন।
সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একটি বন্য শূকরের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে শিকারীরা ততক্ষণে চলে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের সুপারভাইজার রেজাউল করিম বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ধারালো লোহার রড বাঁধা বাঁশটি উদ্ধার করেন।
“ধারণা করা হচ্ছে, এই অস্ত্র দিয়েই শূকরটিকে আঘাত করা হয়েছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানো হয়েছে।”

শূকরটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী জনি রায় বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখেন প্রাণীটির শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
তারা সীমিতভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে শূকরটি বাঁচবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার ঘটনাস্থালে গিয়ে দেখা গেছে, শুকরটি সেখানেই পড়ে আছে ।
জনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু-প্রাণীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় কার্যকর সহায়তা দেওয়া কঠিন। আমাদের ক্যাম্পাসে প্রাণী বৈচিত্র্য অনেক বেশি হওয়ায় এসব প্রাণীর জন্য আলাদা শেল্টার হাউস ও ব্যবস্থাপনা জরুরি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত। কারা এই শিকারের চেষ্টা করেছে, তা অনুসন্ধান করে দেখা হবে।
এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হরিণ শিকারের অভিযোগে ২০০৯ সালে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এনামুল হককে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।