Published : 30 Oct 2025, 09:12 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের একটি লিফট বিকল হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আটকে পড়েন কয়েক শিক্ষার্থী; আগের দিনও বিজ্ঞান অনুষদের একটি লিফট হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে।
অ্যাকাডেমিক ভবন ও হলগুলোতে অকস্মাৎ লিফট বিকলের এসব ঘটনায় আতঙ্ক প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। দুর্ঘটনার শঙ্কায় লিফট এড়িয়ে চলছেন অনেকেই।
বৃহস্পতিবার কলা অনুষদের লিফটে আটকে পড়া শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি ক্লাস শেষে নিচে নামছিলাম লিফটে। কিন্তু হঠাৎ লিফট নিচে ছিটকে পড়ে। যদিও আমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি।”
বিজ্ঞান অনুষদের লিফটেও সমস্যার কথা তুলে ধরে রাফিদ ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের লিফট নষ্ট হওয়া এটা নিয়মিত ব্যাপার। প্রায় সময় দেখি এসব ঘটনা ঘটছে।
“অনেক সময় লিফট চলতে চলতে বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তি তো আছেই, এত রিস্কি, তাই লিফটে চড়ি না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতেও লিফট বিকল হয়ে পড়ার কথা বলছেন শিক্ষার্থীরা।
বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, “লিফট তো প্রায় সময় নষ্ট থাকে। আমাদের একটা লিফট এরকম অনেক সময় হঠাৎ থেমে যায়, এটা নতুন কিছু না। এখন কোন দিন ছিটকে পড়ে সেটাই দেখার বিষয়।”
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আলতাফ হোসেন বলেন, “আমাদের লিফট প্রায় সময় নষ্ট থাকে। আর আমি তিন বছরে শিক্ষার্থীদের লিফট ব্যবহার করতে দেখি নাই।”
কলা অনুষদের এক শিক্ষার্থী আসাদুর রহমান বলেন, “কলা অনুষদের লিফটটা চেইঞ্জ করার জন্য গত চার মাসে ভিসি, প্রক্টর, ডিন এমন কোনো জায়গা নাই যাইনি। তাও তারা কোনো পরিবর্তন করেনি। একটু ঠিক করে দিয়েই চালিয়ে দিচ্ছে। এখন সামনে কোনো লাশ পড়লে তখনই হয়ত তাদের টনক নড়বে”।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী হযরত হানিয়া বলেন, “আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কলা ভবনের একটি লিফট বিকল হয়েছে। আমাদের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের ডানপাশের লিফটটাও সপ্তাহ ধরে নানা যান্ত্রিক সমস্যায়। এটা কেবল দুইটি অনুষদের লিফটের বাস্তবতা না, বরং সমগ্র ক্যাম্পাসেই এই চিত্র বিদ্যমান। গত সপ্তাহে বিজ্ঞান অনুষদে গিয়েছিলাম, সেখানেও একই অবস্থা।”
অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “প্রশাসনের টনক যদি এখনো না নড়ে, তবে নিকট ভবিষ্যতে যেকোনো সময় বিপর্যয় ঘটতে পারে।”
বারবার লিফট বিকলের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, “আমরা কোনো লিফট নষ্ট হলে মেরামত করে দিচ্ছি। আর কলা অনুষদের ঘটনাটা হচ্ছে সেখানে বিদ্যুতের ভোল্টেজ একটু কমে যাওয়ায় লিফটটা হ্যাং করেছে। পরে আমরা ঠিক করে দিয়েছি। এখন একদম সচল আছে।”
হল ও অনুষদগুলোতে লিফট বিকলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এরকম তো অভিযোগ আসেনি। আমরা নষ্ট হলেই মেরামত করছি। সেক্ষেত্রে শঙ্কার কিছু নেই।”
যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় বারবার লিফট বিকল ও দুর্ঘটনার মত ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন প্রকৌশলী ও বিল্ডিং সার্ভিসেস বিশেষজ্ঞ মো. হাসমতুজ্জামান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লিফট ফেইলর হতে পারে যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেই, তাহলে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হবে। লকিং সিস্টেম, লিফটের রশি ও ভেতরে ইলেকট্রিক ডিভাইসগুলো যথাসময়ে রিপ্লেস না করা হলে। লিফট ছিটকে পড়ে মানুষের প্রাণনাশের ঝুঁকি আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব আছে।”
লিফট নিরাপদ রাখতে সপ্তাহে একবার কিংবা মাসে অন্তত একবার লিফটগুলো পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ তার।