Published : 17 Nov 2025, 07:23 PM
জুলাই জাতীয় সনদের গণভোটে যেসব প্রশ্ন রাখা হয়েছে, সেগুলো সাধারণ মানুষের ‘বোঝার বাইরে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার রূপান্তর: একটি কৌশলগত রোডম্যাপ’ শিরোনামে সাদা দল এ সেমিনার আয়োজন করে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক অনাচার’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, “আমরা এখন অনেক বিষয়ে সংস্কার নিয়ে কথা বলি; সরকারের এবং ঐকমত্য কমিশনের বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব ও সুপারিশ নিয়ে কথা বলি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৯-১০ মাস ধরে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশটা দেওয়ার সময় ‘বুদ্ধিবৃত্তিক অনাচার’ হয়েছে।
“তারা যা আলোচনা হলো, তার বাইরে সুপারিশ দিয়েছে। যা আলোচনা হয়েছিল, তার কিছু কিছু বাদ দিয়েছে”।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব যখন সরকারের কাছে গেল, সেখানে সরকারপ্রধান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস সুপারিশ করেছেন। আবার ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি হিসেবে সই করেছেন। আর সুপারিশটাও পাঠিয়েছেন নিজের কাছে।
“উপদেষ্টার কাছে আমি বলেছিলাম কিছুদিন আগে; এখানে একটা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ হয়েছে। ওনার কমিশনের সভাপতি হওয়া উচিত হয়নি “
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির এ নেতা বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কার করতে গেলে প্রথমে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সংস্কার করতে হবে। মানসিক সংস্কার করতে হবে। যদি সে সংস্কার আমরা না করি, যত বড় সাংবিধানিক সংস্কার করি না কেন, কাজ হবে না। যতগুলো আইন আমরা প্রণয়ন করি না কেন, কাজ হবে না। কারণ প্রয়োগ করবে কারা? সেটা দেখতে হবে। ২০০১ সালেও তো এই সংবিধানেই ছিল। কেয়ারটেকার গভমেন্টের বিধান ওখানে ছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেটা তো বিলুপ্ত করে দেননি।”
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জটিল প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের বোঝার বাইরে। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম, জুলাই সনদ নিয়ে যেহেতু জনমত জানতে চায় সরকার, সেহেতু তারা জুলাই সনদ নিয়ে হ্যাঁ-না ভোট করার জন্য। কিন্তু দুটি দলের কাজই হচ্ছে বিরোধিতা করা। তাদের বিরোধিতায় এটা হয়নি।
“এখন যে গণভোটের কথা বলছে, সেখানে যেসব প্রশ্ন দেওয়া আছে, সেটা একজন পিএইচডিধারীও পড়ে বুঝতে পারবে কিনা, না সন্দেহ আছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক শাহ্ শামীম আহমেদ। আলোচক ছিলেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।