ব্যাংক শাখার ভাড়া ৩ বছরে সর্বোচ্চ বাড়বে ১৫ শতাংশ

কল সেন্টার, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জের মত সেবাকেন্দ্রে ব্যাংকিং সেবা নয়; খুলতে লাগবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Jan 2023, 06:49 PM
Updated : 19 Jan 2023, 06:49 PM

সিটি করপোরেশন ও ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভাকে শহর এবং এর বাইরের শাখাকে পল্লী হিসেবে গণ্য করে ব্যাংকের শাখার জন্য ভবন ভাড়া বা ইজারা নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত ও করণীয় ঠিক করে নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে, শাখার বেলায় তিন বছর শেষে ভাড়া বাড়ানো যাবে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এবং অগ্রিম হিসেবে একবারের বেশি অর্থ দেওয়া যাবে না।

এছাড়া শাখার এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো উপশাখা স্থাপন করা যাবে না। তবে বিশেষ জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে বা প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে এ শর্তে ছাড় মিলবে।

বৃহস্পতিবার এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ‘‘ব্যাংক-ব্যবসার ক্ষেত্র ও পরিধি, গ্রাহক সংখ্যা ও জনবল ইত্যাদি বিবেচনায় শহর ও পল্লী শাখার আয়তন হবে যথাক্রমে অনধিক ৬ হাজার ও ৩ হাজার বর্গফুট।’’

এতে ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য স্থাপিত উন্নয়ন কেন্দ্র, কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার, কল সেন্টার, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জগুলোতে কোনো প্রকার ব্যাংকিং সেবা দেওয়া যাবে না। এসব সেবাকেন্দ্র খুলতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, শাখার বেলায় ৪ বছর পর্যন্ত ভাড়া নেওয়ার চুক্তি হলে অগ্রিম হবে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ। এভাবে ৯ বছর হলে ২৪ মাস ও এর ঊর্ধ্বে হলে ৩৬ মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ অগ্রিম হিসেবে দেওয়া যাবে।

ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন ও স্থানান্তরের বেলায় প্রতি বর্গফুট ব্যয় আগের চেয়ে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা ও ১৪০০ টাকা সর্বোচ্চ হবে। আগে নতুন কেন্দ্র স্থাপনে প্রতি বর্গফুটে ব্যয়সীমা ছিল ১ হাজার ৮৫০ টাকা ও স্থানান্তরে ১ হাজার ২৫০ টাকা।

শহর ও পল্লী শাখায় ব্যাংকের শাখা অনুপাত আগের নিয়মে ১:১ হবে। অর্থাৎ নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে শহরে একটি খোলা হলে অবশ্যই পল্লী এলাকায় একটি খুলতে হবে।

ব্যাংকগুলো কৃষি/এসএমই শাখা খুলতে পরাবে শুধু সিটি করপোরেশন ও শহর শাখার বাইরে। এসব শাখা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে পারবে। এসব শাখায় প্রাপ্ত আমানতের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ওই এলাকায় ঋণ দিতে হবে।

অপরদিকে নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো কালেকশন বুথ স্থাপন করে শুধু বিভিন্ন প্রকার বিল, স্কুল-কলেজের বেতন, সেবা ফি ও হাসপাতালের বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অর্থ নিতে পারবে।

এটিএম ও ডিজিটাল বুথ স্থাপনে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক