বাফেদা নির্ধারিত দর না মেনে বেশি দর নেওয়া এসব ব্যাংকের মধ্যে দেশি-বিদেশি ব্যাংক রয়েছে।
Published : 18 Jul 2023, 10:00 PM
এবার ডজন খানেক দেশি-বিদেশি ব্যাংকের নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে ডলার কেনাবেচার প্রমাণ পেয়ে অধিকতর তদন্তে নামছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রধান বিদেশি মুদ্রা ডলারের সরবরাহ সংকটের মধ্যে এ বিষয়ক নির্দেশনা অমান্য করায় উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘আমরা অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা ভেঙেছে কি না।”
তদন্তে পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তবে ব্যাংকগুলোর নাম এবং কোন সময় তারা কত বেশি দরে ডলার বেচেছে তা বলতে চাননি। তদন্তের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা বলেছেন তিনি।
এসব ব্যাংক ডলার বিনিময়কারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) বেঁধে দেওয়া দর না মেনে বাড়তি দরে ডলার কেনাবেচা করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশি দরে ডলার কেনাবেচা করেছে এমন দেশি-বিদেশি ১৩টি ব্যাংকের তথ্য পাওয়া গেছে। দেশি ব্যাংকর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক যেমন রয়েছে, তেমনি এর আগে অতিরিক্ত দরে ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাস্তির মুখে পড়া ব্যাংকের নামও রয়েছে।
বাফেদা ও ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন (এবিবি) ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে ডলারের দর নির্ধারণ করে ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দিচ্ছে। সদস্য ব্যাংকগুলোকে প্রতিদিন সকালে রপ্তানি আয়, আমদানি ও রেমিটেন্সের জন্য ডলারের আলাদা দর জানিয়ে দিচ্ছে বাফেদা।
এ দর মেনেই ব্যাংকগুলোর বাংলাদেশের প্রধান বিদেশি মুদ্রা ডলার কেনাবেচা করার কথা থাকলেও অনেক ব্যাংক তা মানছে না বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে র্নিধারিত দর না মানার অভিযোগ দেয় বাফেদা ও এবিবি।
পরে সংগঠন দুটির যৌথ স্বাক্ষরে গত ৩ জুলাই ব্যাংকগুলোকে সর্তক করে এ বিষয়ে চিঠিও দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছিল, ‘‘বিনিময় হারের একক দর র্নিধারণে বাফেদা ও এবিবি ডলারের যে দর র্নিধারণ করে দেওয়া হয়েছিল গত ২৬ জুন-তা ২ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। কিছু ব্যাংক নির্ধারিত সীমার বেশি দরে ডলার কেনাবেচা করছে। যেসব ব্যাংক এটি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বলা হবে।’’
একই চিঠিতে ব্যাংকগুলো ডলারের দর ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করতে বলা হয়।
এর আগে গত বছরের অগাস্টে অতিরিক্ত দরে ডলার কেনাবেচা করায় দেশি- বিদেশি ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে অপসরাণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময়ে ব্র্যাক, সিটি, প্রাইম, ডাচ্-বাংলা, সাউথইস্ট ও স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের নাম প্রকাশ হয়েছিল সংবাদমাধ্যমে।
এসব ব্যাংকের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাখ্যা পেয়ে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে এক মাস পরে ট্রেজারি প্রধানদের পুনর্বহাল করার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছিল, অতিরিক্ত দরে ডলার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত মুনাফার অর্ধেক সিএসআর তহবিলে স্থানান্তর করার।
একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে লিখিত নেওয়া হয় পরে আইনি সীমাবদ্ধতার সুযোগেও যেন ডলারের দর বাড়ানো না হয়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে ডলারের বিনিময় হার একাধিক একক দরে নামিয়ে আনতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সর্বশেষ গত ২ জুলাই থেকে রপ্তানিতে প্রতি ডলার ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা, রেমিটেন্সে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা দর নির্ধারণ করেছে তারা। আমদানি পর্যায়ে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় রেমিটেন্স ও রপ্তানির বিনিময় হারের ওয়েটেড গড় করে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ওয়েটেড গড় হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ টাকা বেশি নিতে পারবে; অর্থাৎ স্প্রেড সীমা হবে ১ টাকা।