এবার জরুরি কেনাকাটায় বিকাশ-সিটি ব্যাংকের ঋণ

‘পে-লেটার’ নামের এ ঋণ সাত দিনের মধ্যে শোধ করতে পারলে কোনো সুদ দিতে হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 02:10 PM
Updated : 1 April 2024, 02:10 PM

জরুরি প্রয়োজনে কেনাকাটাকে আরও সহজ করতে ‘পে-লেটার’ নামে জামানতবিহীন ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ সেবা চালু করছে সিটি ব্যাংক ও বিকাশ।

অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলেও গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষে মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানি বিকাশ অ্যাপ থেকে সিটি ব্যাংকের এ ঋণ নিয়ে সরাসরি মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন বলে সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে বিকাশ।

এতে বলা হয়, সাত দিনের মধ্যে এ ঋণ শোধ করতে পারলে কোনো সুদ দিতে হবে না। ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা সাপেক্ষে গ্রাহকরা ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত এ ঋণ নিতে পারবেন। দেশজুড়ে ৬ লাখের বেশি মার্চেন্ট পয়েন্ট থেকে বিকাশ অ্যাপ দিয়ে কেনাকাটা করে গ্রাহকরা ‘পে-লেটার’ সেবা নিতে পারবেন।

সোমবার সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘পে-লেটার’ সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এবং বিকাশ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর।

এর আগে ২০২১ সালে সিটি ব্যাংক ও বিকাশ এর যৌথ উদ্যোগে জামানতবিহীন খুবই স্বল্প টাকার আরেকটি ঋণ চালু হয়, যেটির নাম দেওয়া হয় ‘ন্যানো লোন’।

বিকাশের অ্যাপ ব্যবহার করে সিটি ব্যাংক থেকে এখন পর্যন্ত ৭০০ কোটি টাকার বেশি ‘ন্যানো লোন’ নিয়েছেন বিকাশ গ্রাহকরা বলে জানিয়েছিল এমএফএস কোম্পানিটি।

‘পে লেটার’ বিষয়ে সোমবার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঋণের জন্য বিবেচ্য গ্রাহক তার প্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা নিয়ে মার্চেন্ট এর কিউআর কোড স্ক্যান করার পর অথবা সরাসরি মার্চেন্ট নম্বর বসানোর পর টাকার পরিমাণ বসাতে হবে। এরপর নির্বাচন করতে হবে পে-লেটার। পরের তাকে সাত দিনে ইন্টারেস্টবিহীন ঋণ পরিশোধ অথবা ৩/৬ মাসে পরিশোধের যে কোনো একটি পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে।

সাত দিনে ইন্টারেস্টবিহীন পরিশোধ পদ্ধতি নির্বাচন করা গ্রাহক যদি সপ্তম দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করতে পারেন, তাহলে পে-লেটারটি ৩ মাসের ক্ষুদ্র ঋণে পরিণত হবে এবং বার্ষিক ৯ শতাংশ সুদহার প্রযোজ্য হবে।

এদিকে ছয় মাসে পরিশোধ পদ্ধতি নির্বাচন করা গ্রাহককে ২০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট শুরুতেই দিতে হবে এবং বাকি ৮০ শতাংশ পে-লেটারের মাধ্যমে কিস্তিতে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রেও বার্ষিক ৯ শতাংশ সুদহার প্রযোজ্য হবে। দুই পদ্ধতিতেই শূন্য দশমিক ৫৭৫ শতাংশ ভ্যাটসহ প্রসেসিং ফি যুক্ত থাকবে।

গ্রাহক চাইলে সময়ের আগেও ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাকে ওই কয়দিনের জন্যই সুদ দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকের বিকাশ লেনদেন এবং সিটি ব্যাংকের ‘ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট পলিসির’ উপর ভিত্তি করে ঋণ পাওয়ার উপযুক্ততা এবং ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

এ সেবার আওতাভুক্ত হতে গ্রাহককে ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে নিবন্ধিত হতে হবে। গ্রাহক বিকাশ অ্যাপ থেকেই তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি গ্রাহক হিসেবে নিবন্ধন হালনাগাদ করতে পারবেন।

এ সেবা চালুর অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, “ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণের সবচেয়ে ভালো বৈশিষ্ট্য এই যে গতানুগতিক পদ্ধতিতে ঋণ দিয়ে যে সংখ্যক গ্রাহককে ঋণ প্রদান সম্ভব তার চেয়ে কয়েক গুণ গ্রাহককে এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়। যে সকল জায়গায় আমাদের শাখা বা এজেন্ট পয়েন্ট নেই সে সকল গ্রামীণ এলাকার প্রান্তিক গ্রাহকদের কাছেও আমরা আমাদের ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করতে পারছি।”

এ প্রসঙ্গে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, “ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষের জন্য ব্যাংকের ঋণ সহজলভ্য করেছে বিকাশ। এই উদ্যোগ ক্যাশবিহীন লেনদেনের ইকোসিস্টেম তৈরিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংক ও বিকাশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।