১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাংকে কমছে ডলারের দাম, খোলা বাজারে আগের মতই

তবে খোলা বাজারে চড়া দামেই ডলার বিক্রি হচ্ছে।

আবদুর রহিম হারমাছি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Aug 2026, 01:17 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ের নিম্নমুখী প্রবণতায় কমছে ডলারের দাম; 

এক সপ্তাহের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে কমেছে ৬১ পয়সা। শতাংশের হিসাবে কমেছে দশমিক ৫০ শতাংশ।

সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৪১ পয়সা; সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৩ টাকা ৫ পয়সা। আর গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা।

আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ৬ অগাস্ট ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা; সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা। আর গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা।

তবে কিছু ব্যাংকের ডলার বিক্রির দর এর থেকে বেশি। আর খোলা বাজারে এ দর আরও বেশি; ১২৬-১২৭ টাকার মধ্যে।

ডলারের দর নিম্মমুখী হয়েছে কেন- এ প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা তো ভালো দিক। রেমিটেন্সের ঢলে ডলারের দাম কমছে। গত কয়েক দিনে রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি দেখছেন; ৫০ শতাংশের মত। এই মাসের ১২ দিনেই দেড় বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স এসেছে দেশে।

“এছাড়া জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি অন্যান্য কেনাকাটায় পেমেন্টও কম। অর্থাৎ ডলারের চাহিদা কম। সব মিলিয়েই দাম কমছে।”

ডলারের দাম বেড়ে জুলাইয়ের শেষের দিকে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা পর্যন্ত ওঠার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তার প্রধান কারণ ছিল ওই সময় কয়েকটি বড় পেমেন্ট করতে হয়েছিল। সে কারণে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম চড়ে যায়।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিন ৩০ জুন টাকা ও ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। এক বছর আগে ২০২৫ সালের ৬ অগাস্ট ছিল ১২১ টাকা ৯৪ পয়সা।

এদিকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম কমলেও কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে চড়া দামেই ডলার বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি হয়। কেনা হয়েছে ১২৭ টাকা দরে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। সে কারণেই দাম বেশি।”

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, “আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের সঙ্গে কার্ব মার্কেট মেলালে চলবে না। ওই মার্কেটে ডলারের দর ব্যবসায়ীরা নির্ধারণ করেন।”

সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক ১২৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকায়।

বেসরকারি বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ১২৪ টাকা ৯০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বাজারে ডলারের দর নির্ভর করে চাহিদা-সরবরাহের উপর। এখন রেমিটেন্স প্রবাহ বেশ ভালো। চাহিদা কম; সে কারণে ডলারের দর কমবে—এটাই স্বাভাবিক।”

বাংলাদেশ ব্যাংক এখন রেমিটেন্স প্রবাহের প্রতিদিনের তথ্য প্রকাশ করে। বৃহস্পতিবার ১ থেকে ১২ অগাস্টের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, এই ১২ দিনে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের অগাস্টের একই সময়ের চেয়ে ৪২ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

মাসের বাকি ১৯ দিনে এই হারে এলে মাস শেষে রেমিটেন্সের অঙ্ক প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছবে, যা হবে একক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ।

এখন পর্যন্ত এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্সে এসেছে গত মার্চে, ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ (৩.৭৫ বিলিয়ন) ডলার।

২০২৫ সালের অগাস্টের প্রথম ১২ দিনে ১০৫ কোটি ৪০ লাখ (১.০৫ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল।

সব মিলিয়ে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ মাস ১২ দিনে ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার (৪.৩৬ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স এসেছে দেশে, যা ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।