Published : 09 Aug 2026, 05:31 PM
টানা চার দফা কমানোর পর উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট এ-১ বা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি অগাস্ট মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করেছে। সে হিসাবে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ০ দশমিক ৮৫৫৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ০৩৫৮ ডলার করা হয়েছে।
রোববার বিইআরসির এক আদেশে নতুন মূল্যহার নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এদিন রাত ১২টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
বিইআরসি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকাশিত ‘প্ল্যাটস রেটের’ ভিত্তিতে মাসভিত্তিক জেট ফুয়েলের মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।
সর্বশেষ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জুলাই থেকে ৪ অগাস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকাশিত ‘প্ল্যাটস রেটের’ গড়, ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের দাম পরিবর্তনের কারণে পরিবহন ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।
এর আগে মে মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত টানা চার দফা জেট ফুয়েলের দাম কমিয়েছিল বিইআরসি।
জুলাই মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৫০ টাকা ২১ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা করা হয়েছিল।
তার আগে জুনের জন্য দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা করা হয়। ২৩ মে মধ্যবর্তী সমন্বয়ে দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছিল।
এর আগে ৭ মে প্রতি লিটার দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
সে হিসাবে ৭ এপ্রিলের সর্বোচ্চ ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে জুলাইয়ে দাম নেমেছিল ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সায়। চার দফায় কমেছিল ৯৬ টাকা ৯ পয়সা।
অগাস্টের নতুন দর কার্যকর হওয়ার পরও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে জেট ফুয়েলের দাম এপ্রিলের ওই সর্বোচ্চ দরের চেয়ে ৬৭ টাকা ৫৬ পয়সা কম থাকবে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও এপ্রিলের প্রতি লিটার ১ দশমিক ৪৮ ডলার থেকে জুলাইয়ে দাম নেমেছিল ০ দশমিক ৮৫৫৬ ডলারে। অগাস্টে তা বেড়ে ১ দশমিক ০৩৫৮ ডলার হলেও এপ্রিলের সর্বোচ্চ দরের চেয়ে প্রতি লিটারে ০ দশমিক ৪৪৪২ ডলার কম থাকবে। চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে জেট ফুয়েলের দামে বড় উল্লম্ফন হয়েছিল।
২৪ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়। আন্তর্জাতিক রুটে দাম ০ দশমিক ৭৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩২ ডলার করা হয়েছিল।
এরপর ৭ এপ্রিল আরেক দফা বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ১ দশমিক ৪৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়।
এরও আগে ৮ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা।
বিইআরসি এর আগে জানিয়েছিল, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
মার্চে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর ‘এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)’, দাম বৃদ্ধিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা করেছিল।
২০২৫ সালের ১৩ মে গণশুনানির পর জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি ঠিক করে বিইআরসি। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের ‘প্ল্যাটস রেট’, ডলারের বিনিময় হার ও পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন ধরে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।