Published : 08 Aug 2026, 01:28 AM
দেশে কয়েক বছর ধরে ভরা মৌসুমেও চড়া দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, যার কারণ হিসেবে মাছটির নানা বিপদে পড়ে যাওয়ার কথা সামনে এনেছেন জেলে থেকে শুরু করে মৎস্যবিজ্ঞানীরা।
কারো মতে, ইলিশের যাত্রাপথ সংকুচিত হয়ে আসছে; কেউ আনছেন রেণু নিধনের কথা; আছে ইলিশের খাদ্য কমে যাওয়ার যুক্তিও।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদী দূষণ, নাব্যতা হারানো কিংবা ইলিশকে জীবনচক্র সম্পন্ন করতে না দেওয়ার মতো কারণও উঠে এসেছে।
আবার কোনো কোনো গবেষক বলেছেন, একটি বা দুটি কারণে উৎপাদন কমছে— বিষয়টি এমন নয়; অনেকগুলো কারণেই ইলিশের উৎপাদনে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গবেষণায় মনোযোগ দেওয়া; ঠিকঠাক আইন বাস্তবায়ন; জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে প্রণোদনা দেওয়া; ইলিশের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা; কৃত্রিম প্রজননে মনোযোগ দেওয়া এবং ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার মতো পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘ছোট হয়ে আসছে’ জাতীয় মাছ
ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশপাশি এর গড় আকারও ছোট হয়ে আসার কথা বলছেন জেলে ও মৎস্যবিজ্ঞানীরা।
কুয়াকাটার মহিপুর মৎস্য বন্দরের জেলে নাজিম আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগে যেডা ছোড ইলিশ আছেলে, হেইডারও ওজন আছেলে আধ কেজি। এহন ধরা পড়ছে ছোড ছোড ইলিশ। ছয়ডায় এক কেজি হয়।”
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের জেলে লিটনের ভাষ্য, “আগে সাগরে ইলিশের রেনু নিধন করা হত না। মাছ কমে যাওয়ায় শিকারের খরচ পোষাতে ইলিশের রেণুও ধরা হয়।”
এজন্য বড় ইলিশ কমে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
গবেষকদের ভাষ্য, ইলিশ এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পরিণত হয়ে যায়। একটি জাটকা এক বছর বাঁচলে সেটির আকৃতি ১১ দশমিক ৮১ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। পাঁচ থেকে সাত বছর বেঁচে থাকলে ২২ ইঞ্চির বেশিও হতে পারে।
ইলিশ গবেষক ও মৎস্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক আনিসুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিগত দুই বছর সামগ্রিক উৎপাদন কমছে শুধু নয়, বড় আকারের ইলিশের পরিমাণ কমে গেছে।
“একটা সময় ইলিশের গড় আকার ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রাম। এখন ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ গ্রামে চলে আসছে।”
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ধরা পড়া ইলিশের গড় আকৃতি ছিল ১৪ দশমিক ৬৫ ইঞ্চি। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ ইঞ্চিতে।
আকৃতিতে গড়ে সবচেয়ে ছোট ইলিশ ধরা পড়ে রাজশাহী জেলায়; ১১ দশমিক ৪২ ইঞ্চি। আর বড় আকৃতির ইলিশ পাওয়া যায় কক্সবাজারে; ১৫ দশমিক ১৬ ইঞ্চি।
ইলিশের আকার ছোট হয়ে আসার কারণ হিসেবে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ইলিশের খাদ্যতালিকায় ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদ কণা (জুপ্ল্যাংকটন) ও ১২ প্রজাতির প্রাণিকণা (ফাইটোপ্ল্যাংটন) রয়েছে। এসব প্ল্যাংকটনের পরিমাণ মেঘনা নদীতে ৬৮ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ নদীদূষণ।”
গবেষণাটি করেছেন মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।
তিনি বলেন, “পদ্মা ও মেঘনার মোহনায় ইলিশের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্ল্যাংকটন আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। এর প্রভাব পড়ছে ইলিশের আকৃতিতেও। ইলিশ দ্রুত বড় হচ্ছে না। আর বড় হওয়ার আগেই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে।”
ইলিশের ছোট হয়ে যাওয়ার ভিন্ন কারণ বলছেন চীনের সাংহাই ওশান ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ফিশারিজ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের শিক্ষক কিশোর কুমার সরকার।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত কয়েক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের আকার-আকৃতির ওপর এর বিরাট প্রভাব রয়েছে। এই প্রভাব পরিযায়ী মাছের মত অতি সংবেদশীল মাছ, যারা নদী ও সমুদ্র, উভয় জলাভূমিতেই জীবনচক্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিচরণ করে, তাদের উপরে বেশভালো ভাবেই পরার কথা।
“তার ওপর বঙ্গোপসাগরের উজানে নাব্যতা কমে যাওয়া, বিশেষ করে মাইগ্রেশনের চ্যানেল বা যে রুট ধরে ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে প্রবেশ করে বা নদী থেকে সমুদ্রে ফেরত যায়, সেই রুটগুলোতে ডুবোচরের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। আর এতে করে ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যহত হচ্ছে।”
ইলিশের আকার ছোট হয়ে আসা ও উৎপাদন কমার কারণ হিসেবে বরিশালের হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলেন, “ইলিশের জীবনচক্র পরিপূর্ণ না হওয়ার কারণে বড় ইলিশ পাওয়া যায় না। কারণ একটি ইলিশের এক থেকে দেড় কেজি ওজন হওয়ার জন্য অন্তত দেড় বছর সময় লাগে।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “নদীতে ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার পর মিঠা পানিতে একটু বড় হয়ে ইলিশ সাগরে যায়। সেখানে একটু বড় হয়ে (৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম) ডিম দেয়ার জন্য নদীতে আসে। ডিম দিয়ে আবার সাগরে ফিরে যায়। বড় হওয়ার পর আবার নদীতে ফিরে আসে।
“কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত মাছ শিকারের কারণে জীবনচক্র পরিপূর্ণ হতে পারে না। নদীতে জাটকা শিকার হয়। নদী থেকে কোনোভাবে বেরিয়ে সাগর মোহনায় গিয়ে ট্রলিং জাহাজের শিকারের পরিণত হয়। যার কারণে এখন মাছ কমে গেছে এবং বড় মাছ পাওয়া যায় না।”
জেলেদের প্রণোদনা সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না মন্তব্য করে মোহাম্মদ আলম বলেন, “১৪-১৫ বছর জেলেদের হালনাগাদ তালিকা না করতে পারার সমস্যাও রয়েছে।
“জেলেদের প্রণোদনার সিংহভাগ রাজনৈতিক প্রভাবে বিতরণ করা হয়। হালনাগাদ তালিকা না থাকায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জেলে প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।”
দুই বছর ধরে উৎপাদন নিম্নমুখী
ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ নামে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। ২০২১ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ২২৯ কোটি টাকার এ প্রকল্প জুন মাসেই শেষ হয়েছে।
এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন; অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং জাটকা ও মা ইলিশ আহরণকারী ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সাবেক পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ বলেন, “সমস্যাটা হল, ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম ছিল নদীকেন্দ্রিক। সাগরে কোনো কার্যক্রম নেই।
“সাগরে ইলিশের ওভারফিশিং (অতিরিক্ত আহরণ) হচ্ছে। অন্যদিকে নদীতে নাব্যতা সংকট বেড়েছে। আগের মতো নদীতে পানি নেই। ফলে ইলিশের যাত্রাপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমুদ্রে ইলিশ রক্ষায় নিঝুম দ্বীপ, নাফ নদীসহ ছয়টি এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। সে অভয়াশ্রমগুলো কার্যকরভাবে রক্ষা করা যায়নি।”
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে জুলাইয়ে ওই প্রকল্প নেওয়ার সময় ইলিশের বছরে উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার টন। পরের দুই অর্থবছর উৎপাদন কিছুটা বাড়ে। সর্বশেষ দুই অর্থবছর উৎপাদন কমেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার টন।
এর আগে ২০২৩-২৪ সময়ে উৎপাদন হয় ৫ লাখ ২৯ হাজার টন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে দেশে ইলিশের আহরণ কমেছে মোট ৭১ হাজার টন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসেব না পাওয়া গেলেও কর্মকর্তারা বলছেন, এই অর্থবছরেও উৎপাদন ৫ লাখ টনেরও কম।
দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা বলেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনও।
গত এপ্রিলে চাঁদপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “একসময় বাংলাদেশে প্রচুর ইলিশ উৎপাদন হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে উৎপাদনে ভাটা পড়ে। দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে গেছে।”
উৎপাদন কমে যাওযার পেছনে আইন বাস্থবায়ন না হওয়ারও প্রভাব দেখছেন আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, “জুলাই অভুত্থানের পর আইন-কানুন বাস্তবায়নে অনেকটা ব্যতিক্রম হয়ে গেছে। এক বছর যদি নিয়ম কানুন ব্যতিক্রম হয় সাথে সাথেই উৎপাদন কমে যায় না। পরের বছর নেতিবাচক ফল আসে। এছাড়া আরো অনেক কারণে উৎপাদন কমতে পারে।”
ভরা মৌসুমে ইলিশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গত মাসে চাঁদপুরে বড় স্টেশন মাছঘাটে ব্যবসায়ী, আড়তদার, জেলে ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।
দাম বাড়ছে কেন
বাজারে ইলিশের দাম বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে গেল বছর সমীক্ষা চালায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)।
সমীক্ষা প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, মাছ শিকারের খরচ বেড়ে যাওয়া, হিমাগারে সংরক্ষণ করে পরে চড়া দামে বিক্রি করা, রপ্তানির অনুমতি এবং নদীর মোহনায় ইলিশের পরিমাণ দুই-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়া।
এছাড়া ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে একটা ইলিশ চার থেকে ছয়বার হাতবদল হয় এবং প্রতিবারই ৬০ শতাংশের মতো দাম বেড়ে যায় বলেও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।
ঢাকার কারওয়ান বাজারে চলতি সপ্তাহে মোটামুটি এক থেকে দেড় কেজি ওজনের একটা ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা বা তারও বেশি দামে।
বিটিটিসি সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অগাস্টে এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের দাম ছিল দুই হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। আর দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশের কেজি ছিল দুই হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্টে একই ওজনের ইলিশের কেজি ছিল এক হাজার ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা।
দাম বাড়ার কারণ হিসেবে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী মানিক জমাদার বলেন, অন্য বছর এ সময়ে প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার মণ ইলিশ কেনাবেচা হত।
“এবার প্রতিদিন ১০০ মণ ইলিশও বাজারে আসছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।”
ইলিশের ভবিষ্যৎ কী
সাংহাই ওশান ইউনিভার্সিটির শিক্ষক কিশোর কুমার সরকার বলেন, চীনে একসময় ‘চাইনিজ শ্যাড’ নামে ইলিশের সমগোত্রীয় এবং হুবহু একই প্রকারের জৈবিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন একটি মাছ ছিল। চীনের ইয়াংজী নদীতে একটা সময়ে ব্যাপক পরিমাণে আহরণের ফলে ১৯৯০ এর দশকে এসে মাছটি হারিয়ে যায়।
“ইলিশের ক্ষেত্রেও এমন ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।”
এমন শঙ্কার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “একদিকে প্রজননস্থলে প্রবেশের হার কমে যাওয়া এবং ব্যাপক পরিমাণে মা ইলিশ ধরা, অন্যদিকে অপ্রাপ্ত বয়সেই প্রজননে সক্ষম হয়ে উঠায় একত্রে ‘ক্যাসকেড ইফেক্ট’ পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়ার ঝুকি তৈরি করবে।”
তবে কিশোর কুমারের মতো শঙ্কা দেখছেন না ড. আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, “না না। আমি এখনো ওই রকম তীব্র কোনো সংকট মনে করছি না।”
‘প্রয়োজন তিন দেশের যৌথ উদ্যোগ’
ইলিশের প্রজনন ও আকার বৃদ্ধির একক কোনো সমাধান দেখছেন মৎসবিজ্ঞানীরা।
আনিসুর রহমান মনে করেন, ইলিশের উৎপাদনের সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় সম্পৃক্ত রয়েছে।
তার ভাষায়, "অনেকে বলেন, বৃষ্টিপাত বেশি হলেই ইলিশ বাড়ে। অনেকে বলেন, জাটকা রক্ষা করলে ইলিশ হয় বেশি। আবার অনেকে বলেন, ডিম ছাড়ার সুযোগ বেশি পেলে ইলিশ বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও ইলিশ কমে যাওয়ার কথা বলা হয়।
“আসলে সবগুলোই পর্যায়ক্রমে এই সামগ্রিক উৎপাদনে একটা বিরূপ প্রভাব ফেলে। এখন এগুলো যতখানি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, ততটা উৎপাদনের গতিশীলতা স্বাভাবিক থাকে।”
গবেষণার উপর জোর দিয়ে আনিসুর রহমান বলেন, “গড় আকার কেন ছোট হচ্ছে, উৎপাদন কেন কমছে, এসব বিষয়ে ভালো গবেষণা করতে হবে।
“প্রচলিত যে নিয়ম-কানুন আছে সংরক্ষণের জন্য, সেটার সঙ্গে আরো কিছু হালনাগাদ বিষয় যুক্ত করতে হবে। বেশি জরুরি হলো, আইন পরিবর্তন এবং সে আইন ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করা।”
তবে উৎপাদন বাড়াতে কৃত্রিম প্রজননে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন কিশোর কুমার।
তিনি বলেন, “উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন একটা টেকসই মজুদ নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনতিবিলম্বে ইলিশের কৃত্রিম প্রজননের উপর গুরুত্ব আরোপ করা। ইতোমধ্যে ভারত অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যতটুকু জানি, মিয়ানমার ও চীনের যৌথ উদ্যোগও চলমান। খুব সম্ভবত তারা সফল কৃত্রিম প্রজননের দোরগোড়ায়।“
অন্যান্য পদক্ষেপ হিসেবে কিশোর কুমার বলেন, “মলিকুলার টেকনোলজি প্রয়োগ করে ইলিশের আরো অভয়াশ্রম চিহ্নিত করা এবং এর উপর কঠোর নজরদারি চালু রাখতে হবে। জালের পরিমাপ নির্ধারণ করে দিতে হবে, যেন নির্দিষ্ট আকারের চেয়ে ছোট মাছ ধরা না পড়ে। নাব্যতা সংকটের সমাধানও করতে হবে।”
ইলিশের বিচরণ বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারের জলাভূমিতে বিস্তৃত এবং এই তিনটি দেশেই ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ইলিশ রক্ষায় এই তিন দেশের সমন্বিত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কিশোর।
আরো পড়ুন