Published : 05 Oct 2023, 10:21 PM
দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালালে আর দুদিন পরই থার্ড টার্মিনালের ‘সফট ওপেনিং’ হচ্ছে। এর প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে নির্মাণাধীন এ টার্মিনালের কিছু অংশ ব্যবহার করে দুটি উড়োজাহাজে যাত্রী ওঠানামা করেছে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সফট ওপেনিং’ উদ্বোধন করবেন। এর পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট আনুষ্ঠানিকভাবে থার্ড টার্মিনাল ব্যবহার করে ঢাকা ছাড়বে। অন্য দুটো টার্মিনালের মত এ টার্মিনালেও আপাতত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, যাত্রী সেবার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার স্বার্থে নির্মাণাধীন এ টার্মিনালের হ্যান্ডলিংয়ের কাজটি দেওয়া হয়েছে একটি জাপানি কোম্পানিকে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রুপ ক্যাপ্টেন নির্বাহী পরিচালক কামরুল ইসলাম জানান, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে থার্ড টার্মিনালের বে ও বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। তবে ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পুরনো টার্মিনালে করতে হয়েছে।

সোমবার বিমানের ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু ফ্লাইটটি (বিজি-৩৭১) প্রথমবারের মতো তৃতীয় টার্মিনালের কিছু স্থাপনা ব্যবহার করে ঢাকা ছাড়ে। বোয়িং ৭৩৭ সরু বডির উড়োজাহাজটি হাই-স্পিডি ট্যাক্সিওয়ে দিয়ে থার্ড টার্মিনালের পার্কিং বেতে দাঁড়ায়। সেখান থেকে থার্ড টার্মিনালের বোর্ডিং ব্রিজ দিয়ে ওই ফ্লাইটে ওঠেন যাত্রীরা। তবে ইমিগ্রেশনসহ, চেক-ইন ও নিরাপত্তা তল্লাশীগুলো পুরনো টার্মিনাল ২ এ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার একইভাবে আরেকটি কাঠমাণ্ডু ফ্লাইট থার্ড টার্মিনাল ব্যবহার করে পরিচালনা করা হয়েছে।
সফট ওপেনিংয়ের আয়োজনটি হবে থার্ড টার্মিনালের ভেতরেই। এজন্য প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে। কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, টার্মিনালের বে, বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
২০১৯ এর ২৯ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি সফট ওপেনিংয়ের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান জানান, ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করে তারা সফট ওপেনিং করছেন। এর মাধ্যমে এ স্থাপনা ব্যবহারযোগ্য করার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপে প্রবেশ করছেন তারা। এখানকার স্থাপনা ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতিগুলো স্থাপন শেষ হয়েছে। তবে যন্ত্রের সঙ্গে মানুষের (এখানকার কর্মীদের) যে অভ্যস্থতা তা সম্পন্ন হতে প্রায় এক বছরের মত সময় লেগে যাবে। আগামী বছরের অক্টোবরে এ টার্মিনাল যাত্রীদের জন্য ব্যবহারযোগ্য করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “ভবনটা প্রস্তুত হয়ে গেছে, ইকুইপমেন্টগুলো লেগে গেছে। এস্কেলেটর লিফট, ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিং সিস্টেম, সিকিউরিটি ইকুইপমেন্টগুলো বসে গেছে। অনেকগুলো বোর্ডিং ব্রিজ বসে গেছে বাকিগুলোও বসছে। আমাদের ফিজিক্যাল কাজ প্রায় শেষ। এখন ইন্টিগ্রেশনের পার্ট, ক্যালিব্যেশন এর কাজ বাকি। সফট ওপেনিংয়ের পর ওই প্রক্রিয়াগুলো চালু হবে। আপাতত ঠিকাদারের কাছ থেকে আমরা বুঝে নেব।”