১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তাপ কমছে কাঁচা বাজারে

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, “ইন্ডিয়া থেকে মাল আসত না। ঈদ যাওয়ার পর মাল আসা শুরু হইছে, তাই দাম কমছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jul 2023, 03:23 PM

Updated : 22 Jul 2023, 05:52 PM

ঈদের পর অনেকটা বেড়ে যাওয়া সবজির দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। অনেকটাই কমেছে তুমুল আলোচিত পেঁয়াজ, আদা আর কাঁচা মরিচের দর। 

বর্ষায় পানি কমলে মাছের দাম আরও কমে আসবে বলে আশ্বাস দিচ্ছেন বিক্রেতারা। মাঝে দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য বর্ষাকে দায়ী করে তারা বলছেন, পানি বেশি থাকলে মাছ ধরা পড়ে কম। আর সরবরাহ কম থাকলে ‘চাহিদাবিধি’ মেনেই বাড়ে দাম। 

শুক্রবার সকালে তেজকুনিপাড়া থেকে মাছ কিনতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে যাওয়া জলিল শিকদারকে শিং মাছের দাম নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষি করতে দেখা গেল। দাম কিছুটা কমলেও সন্তুষ্ট নন তিনি। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “যেটাই ধরি, সেটাই আগুন।” 

বিক্রেতা মেরু দাস বললেন, এক কেজি চাষের মাগুর মাছের দাম ৬০০ টাকা। চাষের শিং মাছের দাম পড়বে ৫০০। 

“গত সপ্তাহের চাইতে দাম বাড়ে নাই। কিন্তু এমনিতে মাছের দাম বেশিই।” 

কারণ কী- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “বর্ষাকালে পানি বেশি। পানি যখন টান দিব, শুকাইব, তখন মাছ ধরা পড়ব। আর তখন দামও পইড়া যাইব।”

দাম বাড়লে নিজেও অখুশি জানিয়ে এই বিক্রেতা বলেন, “দাম বাড়লে আমরা কী করব, আমরা বাড়ানোর কে? আমাদের কেনা বেশি পড়লে তো আমরা আর কমাইয়া বেচতে পারব না।"  

এ বাজারেই চিংড়ি ও ইলিশ মাছ বিক্রি করেন মোহাম্মদ শুক্কুর আলী। জানালেন ইলিশের দাম কমেছে। 

গলদা চিংড়ির দাম চাইলেন কেজিতে এক হাজার। মাঝারি আকারের ইলিশের কেজি চাইলেন ১১০০।

বললেন, "এইটা অরিজিনাল গলদার বাচ্চা, খুলনা থেকে আনা। কম হইবে না। তবে আপনি ইলিশ কিনতে পারেন, ইলিশের দাম কমছে। গত সপ্তাহে ছিল ১২০০ টাকা। কয়দিন সাপ্লাই ছিল না। এখন সাপ্লাই ভালো, তাই কমছে।" 

এ ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের মাছের দামই কমেছে। 

“শুধু ইলিশ না। ছোট মাছে ১০০ টাকা কমছে, বড় মাছে কমছে কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত।" 

তবে মাছ কিনতে আসা সাহিদা বেগম বলেন, “কী এমন দাম কমছে! ৩৫০-৪০০ টাকার নিচে ভালো কোনো মাছ কেনা যায় না। এত দাম দিয়ে মাছ কিনে খাওয়া তো আমার মত মানুষের জন্য কষ্টকর। কিন্তু তাও কেনা লাগে, বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য।"  

কারওয়ানবাজারের কিচেন মার্কেটে আকারভেদে তেলাপিয়া মাছের দাম এখন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। রুই মাছের দাম পড়ছে কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। 

এফডিসির পাশে রেললাইন ঘেঁষে পাইকারি বাজারে যে খুচরাতেও বিক্রি হয়, সেখানে দাম আরও খানিকটা কম। 

তবে ব্রয়লার মুরগির দামে হেরফের দেখা যায়নি। গত সপ্তাহের মতই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৭০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম অবশ্য খানিকটা কমেছে। ৫০ টাকা কমে ২৭০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। 

পেঁয়াজ-সবজির দরও পড়তির দিকে 

ভারত থেকে আমদানির প্রতিক্রিয়ায় ঈদের আগে শয়ের ঘর পার হয়ে যাওয়া পেঁয়াজের দর কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। 

কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানে দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৬ টাকায়। গত সপ্তাহেই দাম ছিল ৭০ থেকে ৭২ টাকা, কোথাও কোথাও ৮০ টাকা।  

ভারতীয় পেঁয়াজের দাম আরও কমেছে। খুচরায় ৪২ টাকা দরে মিলছে রান্নার উপকরণটি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৮ টাকা। 

এক পাল্লা বা ৫ কেজি নিলে দাম আরও খানিকটা কম রাজধানীর অন্যতম এই পাইকারি বাজারে। 

সবজি বিক্রেতা সাজান বলেন, “মালের দাম কমছে। যেমন আগে কেজিপ্রতি আলু ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, এখন সেটা ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা হইছে। 

“মাঝখানে আদার দাম হয়ে গিয়েছিল কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, এখন সেটা কমতে কমতে ১৮০ টাকা। রসুনের দাম এখন চলে কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, মাঝখান দিয়া এটা ২০০ টাকা হইয়া গেছিল।" 

তবে মৌসুম শেষ বলে টমেটোর দাম কমার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। 

টমেটো বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, “এখন বাজারে যা পাবেন, সব ইন্ডিয়ান। দেশি কোনো টমেটো নাই সিলেটের একটা আছে, কিন্তু সেটা কাঁচা।” 

এই পণ্যটি কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাঁচামরিচের দাম কিচেন মার্কেটের ভেতরে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, কোথাও কোথাও তার চেয়ে কম। 

শাহ আলম বলেন, “দাম বাড়ছিল ঈদের জন্য, ইন্ডিয়া থেকে মাল আসত না। ঈদ যাওয়ার পর মাল আসা শুরু হইছে, তাই দাম কমছে।” 

বনানী থেকে বাজার করতে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, “বনানী থেকে এতদূর আসি। কারণ, এখানে একটু সস্তা পাই। এখন যে দাম আছে, এটা থাকলে চলে। 

“অনেক সময় দেখা যায়, সবজির দাম ৭০-৮০ টাকা হয়ে যায়। কিন্তু সবজির দাম ৩০-৫০ টাকার ভেতর থাকলে আমরা কিনতে পারি।” 

চিনি এখনও তেঁতো 

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই চিনির দাম বাড়িয়ে দেওয়া মিল মালিকরা দাম কমাননি। খুচরায় দাম কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা। 

বিক্রেতারা জানান, পাইকারিই কিনতে হয় ১৩৫ টাকায়। খোলা আর প্যাকেটের চিনির দাম একই দেখা গেল এই বাজারে।