Published : 03 Sep 2026, 04:59 PM
তরুণ উদ্যোক্তদের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, সেই ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের সার্কুলার জারি হবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর।
এ প্রকল্পের অধীনে জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার ঋণ ও ১০ লাখ টাকার এককালীন অনুদান পাওয়া যাবে।
প্রথম পর্যায়ে সব বিভাগে একটি করে জেলা নিয়ে ৮ জেলায় উদ্যোগের অধীনে ঋণ বিতরণ করা হবে। ঋণ গ্রহীতাদের সর্বোচ্চ বয়স ২৮ বছর।
কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, প্রযুক্তি ও স্টার্টআপসহ সব ধরনের ব্যবসায়ীক চিন্তাকে ‘উদ্যোগ’ এর আওতায় ধরা হবে।
উদ্যোগ প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, ‘‘প্রকল্পের অধীনে সব জেলা ও উপজেলাতেই তরুণ সমাজ, যারা বিভিন্ন আইডিয়া, যাদের মাথায় সবসময় আইডিয়া খুরপাক খায়, সেই আইডিয়াকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক বা অন্যান্য অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়া এই উদ্যোগ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
‘‘আমরা আটটি বিভাগের আটটি জেলাকে বাছাই করেছি। এই জেলার অধীনে থাকা ৬৪০ উপজেলার তরুণদের ঋণ সহায়তা দিতে পারব।”
প্রথম পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। সেই ঋণ ফেরত এলে ‘গ্রান্ট’ (এককালীন অনুদান) হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে।
গ্রাহক পর্যায়ে সুদ হার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদ্যমান স্কিম থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সার্কুলারে বিস্তারিত বর্ণনা থাকবে মন্তব্য করে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘‘আমরা প্রথমে পুরোটা ঋণ আকারেই দিব। যখন এই ঋণের সৎ ব্যবহার ও আমাদের কাছে মূল টাকাটা ফেরত আসবে, তখনই আমরা অনুদান ধার্য করব। সব বাস্তবায়ন ছাড়া অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই।’’
সার্কুলার জারির পরে এক মাস বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আবেদন গ্রহণ করবে। প্রথমদিকে ৫ হাজার তরুণকে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই ঋণ উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হবে কিনা, এমন প্রশ্নে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভাগীয় পর্যায়ে আমাদের যেসব আঞ্চলিক কার্যালয় আছে, তারা এটা মনিটর করবে। সর্বোপরি ব্যাংকগুলো এর সঙ্গে অতপ্রতভাবে জড়িত থাকবে, যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবেই ঋণগুলো বিতরণ ও ব্যবহার হয়।”
তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঋণ নেওয়া যাবে না। আবার একজন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তার যদি কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকে, তবে সেই পরিচয়টা তার ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। মূলকথা যিনি প্রতিভাবান হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তাকে এই সুবিধা দেওয়া হবে।’’
অর্থ নিয়ে ভিন্য খাতে ব্যবহার হলে তা শাস্তির আওতায় আসবে। তবে কি ধরনের শাস্তি তা সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়নি।
এর আগে গত ১১ অগাস্ট ‘উদ্যোগ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন ‘‘যাদের বয়স ২৫, ২৬, ২৭-২৮ এর মধ্যে তাদেরকে আমরা ব্যাংকগুলো রিফাইনান্স নিয়ে সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে খুব কম রেটে ৪, ৫, ৬ পারসেন্ট রেটে আমরা লোন দিব।”
গ্রান্ট বাবদ দেওয়া ১০ লাখ টাকা ব্যাংকের সিএসআর (কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) তহবিল থেকে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
প্রথম পর্যায়ে আট বিভাগ থেকে বাছাই করা আট জেলা হল, মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণা।
এসব জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে ১০ জন করে ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত করা হবে ব্যাংক, বিভিন্ন চেম্বার সংগঠন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধির সমন্বয়ে।
বিএনপির রাজনৈতিক ইশতেহারে কর্মসংস্থানের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তারই আলোকে উপজেলা পর্যায়ে এই ‘উদ্যোগ’ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।