Published : 14 May 2026, 11:12 PM
ব্যবসায় অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ানো ও সহজ করতে বড় ঋণ গ্রহীতা কোম্পানি বা গ্রুপের একক গ্রাহক ঋণ সীমা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক থেকে এখন আরও বেশি ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হল ব্যবসায়ীদের।
একই সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্তে সীমা বাড়ানো হয়েছে খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার হারেও। এতে অপেক্ষাকৃত খেলাপি ঋণ বেশি থাকা ব্যাংকগুলোও বড় ঋণ বিতরণের সুযোগ পাবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ফান্ডেড’ ও ‘নন-ফান্ডেড’ ঋণ মিলিয়ে একক গ্রাহকের ঋণসীমা একবারে বাড়িয়ে ব্যাংকের মূলধনের ২৫ শতাংশ করেছে। আগে ‘ফান্ডেড’ (সরাসরি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহীতার অ্যাকাউন্টে) ঋণের ক্ষেত্রে একক গ্রাহকের ঋণসীমা ছিল ১৫ শতাংশ।
ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ সার্কুলার পাঠিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলছে, ব্যবসা ও শিল্পের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অর্থায়নের চাপ কমাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এ সিদ্ধান্ত ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
একই সঙ্গে এ সার্কুলারে ব্যাংকের খেলাপি হারের সীমার বিপরীতেও ঋণ দেওয়ার পরিমাণও বাড়িয়েছে। এতে ব্যাংকের যেমন ঋণ বিতরণ করার সুযোগ বাড়বে, তেমনি বতর্মান ঋণ গ্রহীতাদেরও নতুন করে আরও ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন সিদ্ধান্তে ব্যাংকগুলো চলতি মূলধন, রপ্তানি বা আমদানি বিল খাতে আরো বেশি ঋণ দেওয়ার সুযোগ পাবে ঋণ গ্রহীতাদের।
নন-ফান্ডেড খাতে দেওয়া ঋণের বেশিরভাগ ফোর্সড ঋণে পরিণত হলে ২০২২ সালে এ বিষয়ক নীতিমালায় কড়াকড়ি আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ফোর্সড ঋণ বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা আটকে যায়। তখন একটি ব্যাংক তার ঋণের কত অংশ ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড হিসেবে দিতে পারবে তার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
এদিকে একই প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকের খেলাপি হার কত হলে মূলধনের কত অংশ বৃহৎ ঋণ খাতে দিতে পারবে সেটি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তে অপেক্ষাকৃত খেলাপি ঋণ বেশি থাকা ব্যাংকগুলোও বড় ঋণ বিতরণের সুযোগ পেল।
ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী, ক্ষুদ্র থেকে বড় আকারের ঋণ গ্রহণে গ্রাহকদের যেমন সীমা বেঁধে দেওয়া রয়েছে, ঠিক তেমনি কোন ব্যাংক কী পরিমাণ ঋণ দিতে পারবে সেটিরও একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। একে ব্যাংকিং ভাষায় ‘এক্সপোজার’ বলা হয়। আর্থিক প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে কোনো ব্যাংক মূলধনের কত অংশ একক গ্রাহক ও বড় অঙ্কের ঋণ দিতে পারবে তা ঠিক করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন সিদ্ধান্তে যা আছে
>> যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে, সেটি বিতরণ করা ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বড় বা বৃহৎ ঋণ দিতে পারবে। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে চলে আসছে ৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংকগুলো মোট ঋণের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বড় ঋণ দিতে পারবে।
>> খেলাপি ঋণের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত থাকা ব্যাংকগুলো মোট ঋণের ৪৬ শতাংশ বড়দের দিতে পারবে।
>> ১৫ শতাংশের বেশি ও ২০ শতাংশ পর্যন্ত খেলাপির হার থাকা ব্যাংকগুলো তাদের মোট ঋণের ৪২ শতাংশ বড় ঋণ দিতে পারবে।
>> ২০ শতাংশের বেশি ও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত খেলাপি থাকা ব্যাংকগুলো তাদের মোট ঋণের ৩৮ শতাংশ বড়দের দিতে পারবে।
>> খেলাপির হার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত থাকা ব্যাংকগুলো মোট ঋণের ৩৪ শতাংশ বড়দের দিতে পারবে।
>> খেলাপির হার ৩০ শতাংশের উপরে হলে মোট ঋণের ৩০ শতাংশ দিতে পারবে বড়দের।
এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বড় ঋণের পরিমাণ ব্যাংকের মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হবে না। বতর্মানে মূলধনের ৪০০ শতাংশের বেশি বড় ঋণ দিতে পারে না ব্যাংক।