মার্কিন শুল্ক: তৃতীয় দিনের আলোচনায় বাংলাদেশ
“কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। তবে সেটা মূল আলোচনায় খুব একটা প্রভাব ফেলবে না,” বলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সম্পূরক শুল্ক নিয়ে দর কষাকষি করতে বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দল।
এদিন স্থানীয় সময় বেলা ১টা থেকে ৩টা (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা থেকে রাত ১টা) পর্যন্ত বৈঠক হওয়ার কথা।
বৈঠক শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস উইং) গোলাম মোর্তোজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হবে।”
আলোচনায় সহযোগিতা করতে অনলাইনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকছে। তবে দুই পক্ষের মূল বৈঠকে তারা অংশগ্রহণ করছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘অনেকগুলো বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা চলছে। তারা জানতে চাইছে, আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ বিষয়ে একমত হওয়া গেছে।
“কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। তবে সেটা খুব একটা প্রভাব ফেলবে না মূল আলোচনায়। বাণিজ্য সচিব বলেছেন, তারা আশাবাদী যে ট্যারিফ নিয়ে আলোচনা সফল হবে।”
আলোচনা শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হবে কি না, তা নিশ্চিত নয় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা।
শুল্ক আলোচনা করতে বাংলাদেশের সঙ্গে ‘নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট‘ সই করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে বৈঠকের কোনো বিষয় চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করতে বা গণমাধ্যমকে জানাতে আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের।
সরকারি এ দলে ব্যবসায়ী সংগঠনের তিন জন প্রতিনিধি নিয়ে গেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন গম, তুলা ও সয়াবিন তেল আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার কোনো বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন না তারা।
বাংলাদেশের পণ্যে অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ১ অগাস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। বতর্মানে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে গড় শুল্কহার ১৫ শতাংশ।
এর আগেই প্রস্তাবিত শুল্ক হার পুনর্বিবেচনার আলোচনা চালাতে সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা ছাড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি দল।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউএসটিআরের সঙ্গে আলোচনা করতে এ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। দলটিতে আছেন প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
ট্রাম্প প্রশাসনের ৩৫ শতাংশ শুল্কের খড়্গ সামলাতে ৬২৬টি পণ্যে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয় জাতীয় বাজেটে।
দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে টিসিবির জন্য গম, সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্তের পর বেসরকারি খাতে তুলা আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগও নেয় সরকার।
সবশেষ মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের থেকে ২৫টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেওয়ার কথা জানায় সরকার।
আলোচনা শুরুর আগের দিন মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্যাকেজ প্রস্তাব’ দেওয়া হবে।
“বাণিজ্য উপদেষ্টা গিয়েছেন প্যাকেজ নিয়ে, আরও কী কী কেনা যায় তা নিয়ে। সেখানে কী কী আছে, সেটা এখন আমি বলবো না। তিনি (বাণিজ্য উপদেষ্টা) ফিরুক, তারপরে বলব।”
