Published : 14 Mar 2026, 11:52 PM
রোজার ঈদ সামনে রেখে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
অপরদিকে ঈদযাত্রার বিবেচনায় দূরপাল্লার বাসসহ গণপরিবহনে জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমা থাকবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার রাত থেকেই তা কারর্যকর করার কথা বলেছেন তিনি।
আর রোববার থেকে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি চলবে বলে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেবে জানিয়ে তারা বলেন, তখন জ্বালানি তেলে বর্তমান পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা (রেশনিং তুলে নেওয়া) কালকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আপনাদের জানাবে।
“হয়তো কালকে থেকে এটা উইথড্র করা হবে। কিন্তু কখন থেকে কার্যকর হবে সেটা প্রেস রিলিজ দেওয়ার পরই পরিষ্কার হবে।”
ঈদযাত্রা সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সম্ভবত এরকমই। ঈদযাত্রা এবং কৃষি মৌসুমসহ মার্চ মাসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বিবেচনায় নিয়ে সরকার একটা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা আগামীকাল (রোববার) জানিয়ে দেওয়া হবে।”
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার।
সেই নির্দেশনায় মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক দুই লিটার, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়।
এ ছাড়া পিকআপ বা লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কন্টেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বিক্রির সীমা ছিল।
পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের কথা বিবেচনায় মোটরসাইকেলের সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয় এবং সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
রেশনিং ভবিষ্যতে আবার চালু হতে পারে কি না এমন প্রশ্নে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন বলেন, “এটা ঠিক বলতে পারছি না। কালকে ওনারা জানিয়ে দেবেন। তবে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে। এইটাই বটম লাইন।”
গণপরিবহনে সীমা তুলে নেওয়ার ঘোষণা
এর আগে দিনের বেলা রাজধানীর বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রার চাপ বিবেচনায় দূরপাল্লার বাসসহ গণপরিবহনে জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো সীমা রাখা হবে না।
“আগামীকাল থেকে ঈদযাত্রার চাপ বাড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগেই গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ (শনিবার) রাত থেকেই দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনে তেল নেওয়ার কোনো সীমা থাকবে না।”
তিনি বলেন, বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহনের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখা হয়েছে এবং বাসগুলো নির্ধারিত সময় মেনে চলাচল করছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কি না তাও তদারক করা হচ্ছে।
মজুদ পরিস্থিতি
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ টন ডিজেল মজুদ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য আরও প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল সংরক্ষিত আছে।
দেশে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন। পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টন করে। দেশীয় উৎস থেকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টন পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন হয়, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন।
বিপিসির হিসাবে দেশে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজেল।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, মার্চ মাসে জ্বালানি তেল নিয়ে মোট ১৮টি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। ১৪ মার্চ পর্যন্ত ছয়টি জাহাজ এসেছে এবং ২৭ মার্চের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ আসার সূচি রয়েছে।
এছাড়া সরকার সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সরবরাহের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।