Published : 25 May 2025, 10:10 PM
সরকারের নতুন লাইসেন্সিং নীতিমালায় মধ্যস্তরে থাকা দেশীয় কোম্পানিগুলোর অস্তিত্ব নিয়ে সংকট দেখা দেবে বলে মনে করছেন ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে বা আইজিডব্লিউ ব্যবসায়ীরা।
এ সংকট কাটাতে তারা সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক এসএমএস বা এটুপি (এপ্লিকেশন টু পারসন) সেবা দেওয়ার সুযোগ চাইছে।
তাদের ভাষ্য, এ ব্যবসা দেশীয় কোম্পানিগুলো করতে পারলে বছরে তারা সরকারকে অতিরিক্ত অন্তত ২০০ কোটি টাকা আয় দিতে পারবে।
রোববার রাজধানীর রাওয়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত কর্মশালা ও ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন আইজিডব্লিউ অপারেটরর্স ফোরামের (আইওএফ) নেতারা।
দেশের টেলিকম খাতের রিপোর্টারদের সংগঠন টিআরএনবি এ কর্মশালা আয়োজন করে।
ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মীর টেলিকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল হান্নান বলেন, “২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত লাইসেন্স ফি, এআইটিসহ সবকিছু মিলিয়েআইজিডব্লিউগুলো সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিটিআরসি বা সরকারকে।
“আমাদের কল ভলিউম কমে এসেছে। এই কল (২০১৫ সালে) ছিল দৈনিক একশ মিলিয়ন বা ১০ কোটি। সেখান থেকে দৈনিক এটা এখন ১২ মিলিয়নে নেমেছে। তারপরও আমরা বছরে ৫০০ কোটি টাকা করে সরকারকে দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “আমাদের যে একটা দাবি, এই ইন্টারন্যাশনাল এসএমএস বা এটুপি সার্ভিসটা আমাদের দেওয়া হোক। শুরু থেকে যদি ধরি, সরকার এই খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকা রেভিনিউ শেয়ার পায়নি।
“আমরা যদি এই সার্ভিসটা দিতে পারি বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা সরকারকে দিতে পারব। সেই সঙ্গে আইজিডব্লিউ ব্যবসার অস্তিত্বের যে সংকট দেখা দিয়েছে, এই সার্ভিসটা পেলে সেটা এই খাতটা সেই সংকটটা উতরে যেতে পারে।”
সাধারণত গুগল বা ফেসবুকের মত অ্যাপ বা ওয়েবসাইটগুলো মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন বা পাসওয়ার্ড পাঠানোর জন্য যে এসএমএসটি পাঠায়, সেটিকেই বলা হচ্ছে এটুপি।
আইজডব্লিউ ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত এই বিদেশি এসএমএসের খাতটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের তিনটি বড় মোবাইল অপারেটর। এক্ষেত্রে অপারেটরগুলো তাদের মূল কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত অফশোর কোম্পানির সহায়তা নিচ্ছে।
উদাহরণ দিয়ে তারা বলছেন, এখন ফেসবুকের একটি এসএমএস আগে দুবাইয়ে কোনো অফশোর কোম্পানির সিস্টেমে ঢুকছে, সেখান থেকে এটি দেশের গ্রাহকের মোবাইল ফোন নম্বরে আসছে। এই এসএমএসের জন্য মূল কোম্পানির কাছে যে অর্থ নিচ্ছে অফশোর কোম্পানি, তার অর্ধেক মাত্র দেশে ঢুকছে। দেশীয় আইজিডব্লিউগুলোর মাধ্যমে এই এসএমএস এলে সেটি আইজিডব্লিউ থেকে আইসিএক্স (ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ) সিস্টেমে যাবে, সেখান থেকে সেটি মোবাইল গ্রাহকের কাছে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় সরকার আইজিডব্লিউ থেকে রেভিনিউ শেয়ারিং পাবে, আইসিএক্স থেকেও পাবে, আবার মোবাইল অপারেটর থেকেও পাবে।
আইজিডব্লিউ নিয়ে নানা নেতিবাচক ধারণা আছে মানুষের। ছয়টি অপারেটর প্রায় এক হাজার কোটি টাকা না দিয়ে পালিয়েছে। আরেকটা অভিযোগ হচ্ছে, তারা বিদেশ থেকে অনেক ডলার দেশে আনেন না। দেশের ব্যবসা থেকেই পরিচালন খরচ মেটান। এটা এক ধরণের অর্থ পাচার।
এসব বিষয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, “এ অভিযোগগুলোকে ভুল প্রমাণ করার জন্য বিটিআরসির কাছে শতভাগ তথ্য আছে। বিদেশ থেকে আমরা কত কল এনেছি, তার বিপরীতে কত টাকা আসার কথা এবং আমরা কত এনেছি, এখানে অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। যদি কেউ এরকম কিছু করে থাকে, তাহলে বিটিআরসি পারে এ্যাকশন নিতে।”
সরকার সম্প্রতি যে ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা সংস্কার নীতিমালা’ করছে, সেটি নিয়েও সমালোচনা করেন আইজিডব্লিউ ব্যবসায়ীরা।
আইওএফ’র সহ সভাপতি আব্দুস সালাম বলছেন, “মোবাইল অপারেটরের মত বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সরকার এ নীতিমালা করছে। এখানে আইজিডব্লিউর মত ব্যবসা অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।”