Published : 27 Aug 2026, 10:55 AM
মোংলা বন্দর দিয়ে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার ও বিএমডব্লিউ গাড়ি আমদানির চেষ্টা আটকে দিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে, ঢাকার 'ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস' নামের একটি কোম্পানি এসব গাড়িকে কয়েকটি বড় অংশে কেটে যন্ত্রাংশ হিসেবে দেখিয়ে আমদানির কৌশল নিয়েছিল।
পরে বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় কাস্টমস কর্মকর্তারা কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে নিশ্চিত হন, যন্ত্রাংশ নয়, ওই কৌশলে আস্ত গাড়িই আমদানি করা হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, জাপান থেকে আসা ওই চালানে মোট চারটি গাড়ি আমদানি করা হয়।
রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট মডেলের এসব গাড়ির মোট দাম বাংলাদেশের বাজারে সাড়ে চার থেকে পৌনে সাত কোটি টাকা হতে পারে বলে এনবিআর কর্মকর্তাদের ভাষ্য।
অথচ চালানে গাড়িগুলোকে আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ হিসেবে দেখিয়ে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ধরা হয়েছিল মাত্র দশ লাখ টাকা, যার বিপরীতে শুল্ক-কর দেখানো হয়েছিল ছয় লাখ টাকা।
পরীক্ষায় দেখা যায়, তার ও সেন্সরসহ গাড়ির সামনের অংশ, পেছনের অংশ ও ছাদের অংশ জোড়া লাগানো অবস্থায় ছিল, যা জোড়া দিলে আস্ত গাড়ির কাঠামো ফিরে পাওয়া যাবে।
কাস্টমস গোয়েন্দার ভাষ্য, খণ্ড খণ্ড করে আমদানি করা হলেও এসব অংশে সম্পূর্ণ গাড়ির মূল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোকে সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবেই শুল্কায়ন করা উচিত ছিল।
এনবিআর বলছে, প্রকৃত শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ কত, তা যথাযথ শুল্কায়নের পর চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।