Published : 20 Apr 2026, 07:57 PM
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও কার্যকর তদারকি এবং আকাশ ব্যবস্থাপনায় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এটিএমসি) উদ্বোধন হয়েছে।
সোমবার সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
সংস্থাটি বলছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তি সহায়তা দিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি থালেস। এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালুর ফলে দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এছাড়া এ কেন্দ্রের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনায় নির্ভুলতা ও সময়ানুবর্তিতা বাড়বে, আকাশসীমার ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এটিএমসির মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় ফ্লাইট তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ভূমিকা রাখবে এবং দেশের আকাশসীমার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়াবে বলে মনে করছে বেবিচক।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, “দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে আজ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ‘এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা আরও নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।”
তিনি বলেন, “থালেসের সরবরাহ করা প্রযুক্তি আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে। সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে।”
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “আঞ্চলিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমন্বিত আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, “দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এটিএম-সিএনএস সিস্টেম চালুর মাধ্যমে নিরাপত্তা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে ফ্রান্স সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, থালেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) নিকোলাস বওভেরট বক্তব্য দেন।