ভাইরাসের ভয় উপেক্ষা করে চাকরি বাঁচাতে ঢাকার পথে শ্রমজীবীরা

শাহাবুদ্দিন শুভ
Published : 4 April 2020, 07:10 PM
Updated : 4 April 2020, 07:10 PM

শ্রমিকরা চলে যায় কারণ এই শহরে ওদের নিজের ঘর নেই। ওরা আবার ফিরে আসে কারণ ওদের শুধু বাঁচলেই হবে না, বাঁচাতে হবে মূল্যবান চাকরিটিও। পেতে হবে ঘাম আর শ্রমের দাম৷ সবাই যখন ছুটি পায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত তখন তাদের ছুটি পেতে মানা। কারণ তাদের ঘামের উপর ভর করেই তো মালিকরা লাভের অংক কষবেন।

সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে এ ছুটির মেয়াদ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। করোনাভাইরাসে ছড়িয়ে পড়া রোধে অন্তত দুই সপ্তাহ সবাইকে বাড়িতে রাখতে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের এই পদক্ষেপ।

এ সময়কালে জনসমাগম তো দূরের কথা, বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরেও যাতে মানুষ বের না হয়, এ জন্য মাঠে নামানো হয়েছে সেনা। চলছে প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত সচেতনতা কার্যক্রম ও অভিযান।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নির্দেশে আর সব কিছু যখন ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ, শুধু খুলে যাচ্ছে তৈরি পোশাকের কারখানা৷


ময়মনসিংহ থেকে পায়ে হেটে শ্রমিকরা ঢাকার পথে

নীতি নির্ধারকরা আমাদের বলছেন, আমরা যেন কাজ ছাড়া বাইরে না যাই, তিন-চারদিন আগেই দেখেছি কড়াকড়ি আরোপ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ; আর সেনাবাহিনী হচ্ছে কঠোর৷ কারণ এই দুই সপ্তাহ নাকি সবচেয়ে বেশি আশঙ্কার৷ গার্মেন্টস কর্মীদের কি সংক্রমণের ভয় নেই?

শ্রমিকরা করোনাভাইরাসের ভয় পায়, কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য যে চাকরিও প্রয়োজন। তাই করোনাভাইরাসের ভয়কে পেছনে ফেলে চাকরি বাঁচানোর ভয়ে জনস্রোতের মত ঢাকার পথে পা বাড়াতে হয় তাদের।

তবে দেরিতে হলেও অথবা সমালোচনার কারণে হলেও শেষ পর্যন্ত বোধদয় হয়েছে বিজিএমইএর; ঘোষণা এসেছে গার্মেন্ট বন্ধ থাকবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক