জেলায় জেলায় লকডাউন

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের উদ্বেগের মধ্যে দেশে নমুনা পরীক্ষার আওতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় আক্রান্ত সন্দেহে অনেককে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর পাশাপাশি বাড়ি লকডাউনও করা হচ্ছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 April 2020, 06:28 PM
Updated : 4 April 2020, 06:29 PM

উপসর্গ নিয়ে কারও মৃত্যু হলে, হাসপাতালে গেলে কিংবা অন্য কোনোভাবে নজরে এলে স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। কারও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছে, কাউকে হোমকোয়ারেন্টিনে থাকতে বলছে, কারও বাড়ি লকডাউন করছে। কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করে নিচ্ছে।

শনিবার বিভিন্ন জেলা থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে এই চিত্র উঠে এসেছে।

চাঁদপুর

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল হায়াত জানান, দুর্গাপুর ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি গ্রামে জ্বর, বমি ও পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যায় ৫৫ বছর বয়সী ওই নারী শুক্রবার রাতে মারা যান। এই ঘটনায় শনিবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন আশপাশের ৫টি বাড়ি লকডাউন করেছে। পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া না পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবত থাকবে।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই আমেরিকা প্রবাসীর সংস্পর্শে আসা আরও এক নারীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার হবিবুল্লাপুর গ্রামের পশ্চিম (হিন্দু) পাড়া লকডাউন করা হয়েছে।

শনিবার সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নবীনেওয়াজ জানান, এক নারীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় বনগ্রাম ইউনিয়নের হবিবুল্লাপুর গ্রামের পশ্চিম (হিন্দু) পাড়া দুপুরে লকডাউন করে দেওয়া হয়। এই পাড়ায় মোট ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারের বসবাস।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম মন্ডল জানান, শনিবার ঢাকার আইইডিসিআর থেকে করোনাভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি তাদেরকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

“নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই নারীকে আপাতত তার নিজ বাড়িতেই হোম আইসোলেশনে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।”

নারায়ণগঞ্জ

বন্দর উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত নারীকে গোসল করানোর ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বাড়ির নয়টি পরিরবারের ২৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলার রসুলবাগ লকডাউন নিষেধাজ্ঞা না মেনে লোকজনের আনাগোনার অভিযোগ উঠেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক(অপারেশন) রুবেল হাওলাদার বলেন, “পাঠানটুলির ওই বাড়িতে পুলিশ গিয়ে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে বন্দর রসুলবাগ এলাকার করোনায় মৃত নারীকে গোসল করিয়েছেন ওই নারী।

“এ কারণে ওই বাড়ির ২৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।”

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রসুলবাগ এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত এক নারীর বাড়িসহ আশপাশের অর্ধশতাধিক বাড়ি লকডাউন করা হলেও পাশের বাড়ি ও দেওয়াল টপকে এলাকার লোকজন আসা-যাওয়া করছেন।

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার বলেন, এলাকার লোকজন লকডাউনের বাড়ির একটি টিন খুলে ফেলেছিল। সেটি পুনরায় লাগানো হয়েছে।

লকডাউন কড়াকাড়ি করতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

১৩ জন হোম কোয়ারেন্টিনে

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে এক ব্যবসায়ীর (৪৪) মৃত্যুর পর ওই পরিবারের আট সদস্যসহ ১৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে।

ওই ব্যক্তি নগরীর দুই নম্বর রেলগেইট এলাকার বর্ষণ সুপার মার্কেটে তৈরি পোশাকের ব্যবসা করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ জানান, ঠাণ্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন। বাদ জোহর পাইকপাড়া বড় কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।

“ওই পরিবারসহ ১৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই পরিবারকে প্রয়োজনীয় সকল কিছু পৌঁছে দেওয়া হবে।”

শরীয়তপুর

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার থিরোপাড়া এলাকায় ৩৩টি পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে।

নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, থিরোপাড়া এলাকায় এক বৃদ্ধ (৯০) জ্বর ও মাথা ব্যথা নিয়ে পহেলা এপ্রিল নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে তাকে বৃহস্পতিবার ঢাকায় কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়। শনিবার ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেতার মৃত্যু হয়।

“মারা যাওয়ার পর শনিবার নড়িয়ায় তার বাড়িসহ আশপাশের ৩৩টি পরিবারের মধ্যে ১৮০ জনকে লকডাউন করে রাখা হয়েছে।”

শেরপুর

শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর এলাকায় এক নারীর সর্দি,জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথার উপসর্গ পেয়ে আক্রান্ত সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

সেইসঙ্গে সেখানকার দুটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে বলে শেরপুরের সিভিল সার্জন এ কে এম আনওয়ারুর রউফ জানিয়েছেন।

সিভিল সার্জন বলেন, সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিমের সংগ্রহ করা ওই নমুনা রোববার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

অপরদিকে শ্রীবরদী উপজেলাতেও একজনের নমুনা সংগ্রহ করে তাকে হোম কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে বলেও সিভিল সার্জন জানান।

রংপুর

রংপুরসদরউপজেলার সদ্যপুস্করিণীইউনিয়নের জানকিধাপেরহাটএলাকায় শনিবার আটটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণাকরেছে স্থানীয়প্রশাসন।

জেলার সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায় বলেন, “করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি (৫০)ঢাকার কারওয়ান বাজারে একটি সবজি বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে ১০ বছর ধরে কাজ করতেন। গত রোববার ট্রাকে করে ঢাকা থেকে বাড়ি আসছিলেন।

তিনি জানান, বগুড়ায় পৌঁছে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। তাকে বগুড়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে খবর পেয়ে ওই দিন তারজামাই রংপুর থেকে তাকে দেখতে যান।

“তার জামাই শ্বশুর বাড়ি জানকি ধাপের হাটে অবস্থান করায় ওই বাড়িসহ আশপাশের আটটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।”

বগুড়া

বগুড়া শহরেগাইবান্ধা থেকে ছেলের বাড়ি বেড়াতে আসার পর শনিবার শ্বাসকষ্টে এক বৃদ্ধের (৭০) মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার সিভিল সার্জন গাউসুল আযম বলেন, “আপাতদৃষ্টিতে মনেহচ্ছে তিনি করোনায় মারা যাননি। তারপরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাটি রাজশাহীতে পাঠানো হবে। আশেপাশের বাড়িগুলোতে আপাতত নমুনার ফলাফল না আসা পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলা হয়েছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক