দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোর কাছে যা কিছু প্রত্যাশা

সাকিব জামাল
Published : 10 Nov 2019, 12:38 PM
Updated : 10 Nov 2019, 12:38 PM

সুলতান সুলেমান,  ইউসুফ জুলেখার মত টিভি সিরিয়ালসহ বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার করছে। এসব আমাদের দেশের দর্শকমহলে জনপ্রিয়তাও পেয়েছে বেশ। এমনকি জাতীয় দৈনিকগুলো এর কিছু পর্ব নিয়ে সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে মনে হচ্ছে, ভিনদেশি সিরিয়াল বা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র প্রচারের ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলো। আমদের দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক অর্থনীতিতেও  এটি ঋণাত্মক প্রভাব ফেলছে।

যদিও বিশ্বায়নের যুগে দর্শক-শ্রোতা কী দেখবেন বা শুনবেন তা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব প্রায়। তবুও টিভি চ্যানেলগুলোর কিছু দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে অনুষ্ঠানসমূহ নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

আমাদের দেশের দর্শক ভিনদেশি অনেক সিরিয়াল  বা চলচ্চিত্র টিভির পর্দায় দেখেছেন। যেমন- আলিফ লায়লা, ম্যাকগাইভার, টাইটানিক। কিন্তু বর্তমানে এসব প্রচার করার প্রবণতা আমরা টিভি চ্যানেলগুলোর মাঝে যেভাবে  দেখছি তা কোমর বেঁধে নেমে পড়ার মতই।

প্রথমত, সাংস্কৃতিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে হলে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির যথাযথ বিকাশ করতে হবে । আর এসব তাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং বিকাশের জন্য অন্যতম প্রতিবন্ধক। তবুও কেন আমরা এগুলো প্রচার এমনকি প্রসারে ভূমিকা রাখছি? দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য? এটি ভুল ব্যাখ্যা।  বাকের ভাই, রূপনগর আর পুরোনো দিনের বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রের কথা ভুলে যাননি কেউ।

আসলে বিষয়টি মানের সাথে সম্পর্কিত। মানসম্পন্ন সব অনুষ্ঠানই দর্শক জনপ্রিয়তা পায় এবং সংগত কারণে সেই চ্যানেলটির জনপ্রিয়তাও বেড়ে যায়। সুতরাং নির্মাতাদের মান সম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে হবে। অনেকে বলতে পারেন – মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ হচ্ছেনা বলেই এসব চ্যানেল ভিনদেশি অনুষ্ঠান প্রিয় হয়ে যাচ্ছে। এটিও আংশিক মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এভাবেই যদি চলতে থাকে  তাহলে কিছুদিন পর আর কোনো দেশি অনুষ্ঠানই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

সুতরাং প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত দেশীয় অনুষ্ঠান নির্মাণের মান উন্নয়নের ব্যাপারে, দেশীয় কলা-কৌশলীদের উৎসাহ দেওয়ার ব্যাপারে। আর চ্যানেলগুলোই এর প্রধান পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকা পালন করবে এটাই কাম্য।

আরেকটি বিষয় হল- সংস্কৃতির সাথে সরাসরি অর্থনৈতিক সম্পর্ক। দেশীয় প্রোগামগুলোতে হয়তো তারা বিজ্ঞাপন কম পান বা বিনিয়োগ কম হয় যা চ্যানেলগুলোর জন্য লাভজনক নয়। এজন্য কি মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া উচিৎ হবে? ভিনদেশি অনুষ্ঠানগুলো আমদানি করতে গিয়ে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। চূড়ান্ত হিসেবে সাংস্কৃতিক অর্থনীতির জন্য এটি লোকসানই বটে। আমাদের প্রতিবেশী ভারতের দিকে তাকালে দেখা যায়- তাদের সাংস্কৃতিক অর্থনীতি বেশ সমৃদ্ধ। তারা বিভিন্ন দেশে তাদের অনুষ্ঠান রপ্তানি করছে। এই অর্জনে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং নিজস্ব সংস্কৃতির ব্যাপক মান উন্নয়নসহ তাদের  টিভি চ্যানেলগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আমাদের সাংস্কৃতিক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রচারের প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসতে হবে টিভি চ্যানেলগুলোকে। নিজস্ব সংস্কৃতির মানোন্নয়ন, প্রচার এবং প্রসারে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই বলতে পারি – এ কাজে দেশের দর্শকরা অবশ্যই সাথে থাকবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক