নাইকো দুর্নীতি: খালেদার আবেদনের শুনানি ফের বুধবার
এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৭ মে খালেদা জিয়ার পক্ষে হাই কোর্টে আবেদন করা হয়।
আলোচিত নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির দিন রাখা হয়েছে বুধবার।
সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানির পর এই দিন ঠিক করে দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল। সঙ্গে অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা বাদলসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ছিলেন। দুদকের পক্ষে মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৩ মে এ বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। ওইদিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা প্রস্তুতির জন্য সময়ের আবেদন করেন। তখন আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৯ অগাস্ট দিন ঠিক করে দেয়। ওইদিনও শুনানির পর সোমবার দিন রাখা হয়।
চলতি বছরের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান।
অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৭ মে খালেদা জিয়ার পক্ষে হাই কোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী কায়সার কামাল।
কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে ‘অস্বচ্ছ’ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।
পরের বছর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সেখানে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
এ ছাড়া সাবেক আইনমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন এই মামলায় আসমি থাকলেও তারা মারা যাওয়ায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার ১০ বছরের এবং জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরেরর সাজা হয়েছে।
ওই দুই মামলায় সাজা খাটার মধ্যেই পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালের মার্চে সাজা স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। বাসায় থেকে চিকিৎসা করার এবং বিদেশে না যাওয়ার শর্তে তিনি গুলশানের বাসায় থাকছেন।
আরও খবর
