ঢাকায় আদিবাসীদের খাবার উৎসবে সাড়া
একদিনের উৎসবে ১৫টি স্টলে ছিল চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন, গারোসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর বাহারি খাবার।
পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের খাবার নিয়ে রাজধানীতে হয়ে গেল একদিনের ‘ইন্ডিজিনাস ফুড ফেস্টিভাল’।
শনিবার রাজধানীর মিরপুরে বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে এ উৎসব চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।
উৎসবে ১৫টি স্টলে ছিল চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন, গারোসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর খাবার।
‘গরুর গুদেয়ী’, ‘শুঁটকি হেবাং’, ‘মুরগি হরবো’, ‘সান্যে-পিদে’, ‘বালাচাও’- আদিবাসীদের এসব বাহারি খাবার ছাড়াও ছিল পাহাড়ের জুমে চাষ করা নানান শাকসবজি ও ফলমূল।
উৎসবে চাকমাদের নানান সুস্বাদু খাবার নিয়ে রাঙামাটির পেদা টিং টিং রেস্টুরেন্টের স্টলে ছিলেন ঐতিহ্য দেওয়ান। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রথমবারের আয়োজনের হিসেবে বেশ সাড়া পেয়েছেন তারা।
স্টলে সাজানো বাহারি খাবারের পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে এখানে আছে বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি পাঁজন। এছাড়াও ব্যাম্বু চিকেন, ব্যাম্বু পোর্ক সবাই বেশি পছন্দ করছে”।
উৎসবটি আয়োজন করেছে আদিবাসীদের সংবাদ বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল আইপিনিউজ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নাগরিক উদ্যোগ।
এদিন সকালে ফিতা কেটে উৎসবের উদ্বোধন করেন বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। উদ্বোধন শেষে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা ।
নাগরিক উদ্যোগের প্রকল্প ব্যবস্থাপক নাদিরা পারভীন বলেন, এ ধরনের ব্যতিক্রম ধর্মী আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।
আগামীতেও ইন্ডিজিনাস ফুড ফ্যাস্টিভাল আয়োজনে থাকার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
আইপিনিউজের সম্পাদক আন্তনিও রেমা জানান, আদিবাসী দিবসকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ হিসেবে এটি আয়োজন করেছেন তারা। এবারের উৎসব ছিল পরীক্ষামূলক। তাতেই বেশ সাড়া মিলেছে। আগামিতে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের কথা বলেন তিনি।
একদিনের আয়োজন হওয়ায় উত্তরবঙ্গের আদিবাসী জনগোষ্ঠী উৎসবে অংশ নেয়নি জানিয়ে রেমা বলেন, “তারা কথা দিয়েছে পরবর্তী বছরগুলোতে যখন দুই-তিন দিনব্যাপী আয়োজন করা হবে, তারা আসবে।“
সিলেটের খাসিয়া অঞ্চলে পানের দাম ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় আর্থিক দুরবস্থার কারণে খাসিয়া জনগোষ্ঠীও এবার উৎসবে আসতে পারেননি বলে জানান তিনি।
উৎসবটি আদিবাসী-বাঙালি সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় সকাল থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা ভিড় করে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সঙ্গে ভিড়ও বেড়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মৌসুমী কর্মকার মেয়ে মৃদুলাকে নিয়ে এসেছিলেন উৎসবে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদিবাসীরা পোশাক, খাদ্যাভ্যাস সবক্ষেত্রেই বৈচিত্র্যময়। এখান থেকে জুমের কিছু সবজি নিয়েছি। এই ধরণের আয়োজন আরও হোক।“
তবে উৎসবে বিভিন্ন খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশি জানিয়ে মিরপুর বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী তৌহিদ ফারুক বলেন, “সবকিছুর দামই একটু বেশি। তবে তাদের খাবারগুলো অর্গানিক আর খাঁটি। তৈরি খাবারে মসলাও কম দিয়েছে, তাই সুস্বাদু লাগছে।“
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের রেক্টর ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, ব্যান্ড তারকা মাকসুদুল হক ও নাগরিক উদ্যোগের প্রকল্প ব্যবস্থাপক নাদিরা পারভীন।
