০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

তাহসিফের মৃত্যু: ৮ কারণে দীপকে ফের রিমান্ডে চায় পুলিশ

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফের লাশ উদ্ধার হয় গেল ২৮ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 02:02 PM

Updated : 03 Nov 2026, 02:02 PM

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের ৭ দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেছে নৌ-পুলিশ।

এর জন্য আটটি কারণ দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন মঙ্গলবার এ আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আবেদনের তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হবে।”

আবেদনে বলা হয়, “মামলার ঘটনাটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। মামলার ঘটনায় মৃত ডিসিস্ট তাহসিফ সাউরি ঘটনার আগে তদেন্ত সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও জেরিকা তাসনিম দিশার সাথে ঘোরাফেরাসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছে। এ যাবৎ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে প্রকাশ পায়, সাউরিকে মৃত্যুর আগে শেষ বারের মত তাদের সাথে দেখা গেছে। এই অবস্থায় আসামিরা কোনো না কোনোভাবে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে মর্মে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

“সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ মামলার ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করাসহ ৮ কারণে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।

এর আগে গত শনিবার প্রথম দফায় দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে যে ৮ কারণ তুলে ধরা হয়েছে

• সংগৃহীত বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ক্লোজড সার্কির ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে দীপের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষল ও পর্যবেক্ষণ করা।

• ভিকটিমের সাথে দীপ ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ থাকার সময়, কিছু সময়ের জন্য অন্যত্র সরে গিয়ে ১৫/২০ মিনিট কোথায় যোগাযোগ করেছেন তা পর্যালোচনা করা।

• ভিকটিম ও দীপসহ অন্যান্যদের ব্যবহৃত প্রাসঙ্গিক মোবাইলের সিডিআর সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা।

• মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন।

• অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেপ্তার ও শনাক্ত।

• আলামত উদ্ধার।

• মোটিভ অব মার্ডার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ।

• এছাড়া হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারন করার লক্ষ্যে।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গেল ২৮ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

তিনি ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।

দীপ ২৯ অক্টোবর বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।

তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ওই দিন রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন দীপকে চার দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

এছাড়া দীপের দেওয়া তথ্যেই ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।

‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করে দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

এ মামলায় রোববার তাহসিফ সাউরির ‘বান্ধবী’ জেরিকা তাসনিম দিশাকে চার দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। ঘটনার দিন রাতে তাহসিফের সাথে দিশাকে উত্তরার একটি বারে দেখা গিয়েছিল।