রাষ্ট্রদ্রোহ: সাবেক ওসি রাকিবুল ফের রিমান্ডে, আইনজীবী বললেন 'মামলা টিকতে পারে না'
ওই অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।”
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুদিনের রিমান্ডের পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত হাসান রিমান্ডের আদেশ দেন।
এদিকে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আর যে ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে তা ‘টিকতে পারে না’ বলে আদালতকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তারেকুর রহমানের রিমান্ডের তথ্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিও রেকর্ডে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায়।
ওসির অডিও ছড়িয়ে পড়লে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। এরপর কমিটির সদস্যরা তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে তার বিরুদ্ধে একই থানার ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথ মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বৃহস্পতিবার তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয়।
রিমান্ড শেষে সোমবার রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করে পুনরায় তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. জেহাদ হোসেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, “আসামি রাকিবুল হাসানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া চার মিনিট ২৯ সেকেন্ডের অডিও সম্প্রচার ডিভিডিতে ধারণ করে জব্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নমুনা কণ্ঠস্বরের সঙ্গে আসামি মো. রাকিবুল হাসানের তুলনামূলক পরীক্ষা করার জন্য তাকে পুনরায় তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।”
পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, "আসামি কার সাথে কথা বলছিলেন তাকে শনাক্তসহ গ্রেপ্তার করতে আসামিকে নিয়ে অভিযান চালাতে রিমান্ড প্রয়োজন।"
আসামির পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করে বলেন, “আসামিকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ড কি পেলেন, অগ্রগতি কি তার বিন্দুমাত্র উল্লেখ নেই আবেদনে। আবার কেন রিমান্ড প্রয়োজন তাও সুষ্পভাবে বলা হয়নি। এরআগে তাকে ৭ দিন আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অথচ তার কোনো ব্যাখা নেই আটকে রাখার।''
তিনি বলেন, "আসামির একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এমন অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। এই অভিযোগে মামলা করলে তো সাইবার অ্যাক্টে যাবে। মামলা করেছে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। যে ধারা দিয়েছে তা হল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। উনি একজন সরকারি কর্মচারী। সরকারি কর্মচারী হয়ে কিভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
“মামলার কোথাও উল্লেখ নেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এই মামলায় তো টেকে না। আওয়ামী ট্যাগ নিয়ে মামলা করা হয়েছে। তারপর আবার রিমান্ড আবেদন করেছে। রিমান্ড বাতিল করে যেকোনো শর্তে জামিন প্রার্থনা করছি। জামিন দিলে তিনি পলাতক হবেন না।”
শুনানি নিয়ে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
ওসি রাকিবুলের নামে প্রচার করা ওই অডিওটিতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।”
ওই ব্যক্তি অডিওতে দাবি করেন, “পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, অথচ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না।”
পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও কথা বলতে শোনা যায়।
যদিও ওসি রাকিবুলের নামে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তারই কি না সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ অডিও নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে প্রথমে রাকিবুল ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয় ডিএমপি। পরে এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
