গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে শেখ হাসিনার প্রশংসায় বিশ্বনেতারা

শান্তির জন্য কাজ করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Oct 2023, 06:42 PM
Updated : 26 Oct 2023, 06:42 PM

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে দুই দিনের গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরাম ২০২৩ এর অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ‘উচ্ছ্বসিত’ প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে বুধবার প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ বছরে দেশের ‘যুগান্তকারী’ অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে তার অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা তুলে ধরে বক্তৃতাকালে অংশগ্রহণকারীরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাকে সাধুবাদ জানান বলে বাসস জানায়। 

বিশ্ব নেতাদের শান্তির জন্য কাজ করতে আন্তরিক আহ্বানের মধ্য দিয়ে তার আবেগঘন বক্তৃতা শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা এসময় বিপুল করতালি দিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

ব্রাসেলসে দুই দিনের এ সম্মেলন বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, নেতৃস্থানীয় চিন্তাবিদ, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সরকারের সবচেয়ে সিনিয়র প্রতিনিধিদের একত্রিত করেছে।

বাসস জানায়, লন্ডনভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়, স্বাধীনতার পরবর্তী বছরগুলোতে দেশের অভ্যন্তরে সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের প্রতি শান্তির জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার বিশ্বের সর্বোচ্চ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে, যে কোনো মানদণ্ডে এটি একটি অবিশ্বাস্য অর্জন।

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ৭০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ১৫ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ৪৬৫ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে।

“আমরা আমাদের লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছি। চরম দারিদ্র্য ২০০৬ সালের ২৫.১% থেকে ৫.৬%-এ নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে জাতিসংঘের এলডিসি মর্যাদা থেকে উন্নীত হতে চলেছে।”

নিবন্ধে লেখা হয়, শেখ হাসিনার পিতা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও জাতির পিতা হিসেবে সম্মানিত শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের অন্য ১৮ জন সদস্যের সঙ্গে ১৯৭৫ সালের অগাস্টে বিদ্রোহী সেনা অফিসারদের হাতে নিহত হন। তখন ইউরোপে থাকায় শুধু শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন বেঁচে যান। শেখ হাসিনা নিজেও এরপর থেকে জীবননাশের অনেক চেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন।

গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। তিনি গ্লোবাল গেটওয়ে ইনিশিয়েটিভের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলোর রূপরেখা তুলে ধরেন এবং সংক্ষেপে তা অর্জনের পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল ও আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।

জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আমিনা জে মোহাম্মদের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশন শেষ হয়।