যাবজ্জীবন সাজা মাথায় নিয়ে ৩০ বছর পলাতক চরমপন্থি সদস্য গ্রেপ্তার

পাবনার এই সর্বহারা সদস্য ছাত্তার নাম নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Sept 2022, 06:22 PM
Updated : 10 Sept 2022, 06:22 PM

থানার অস্ত্র লুট ও পুলিশ সদস্যকে হত্যার অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজা মাথায় নিয়ে ৩০ বছর ধরে পলাতক চরমপন্থি দল সর্বহারার এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে সাইফুল ইসলাম নামের ৫৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল আত্মগোপনে থেকে ছাত্তার নামে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। চরমপন্থি দল পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) বা সর্বহারার সদস্য ছিলেন তিনি।

১৯৮৭ সালে ওই দলের নেতা তারেকের নেতৃত্বে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানা লুট করা হয়। হাবিবুর রহমান নামের এক পুলিশ কনস্টেবল তাদের বাধা দিলে তাকে গুলি করে হত্যা করে চরমপন্থি দলের সদস্যরা।

তারা অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে অস্ত্র, গোলাবারুদ লুট করে এবং থানার লকআপে বন্দি চরমপন্থি দলের আটক সদস্য ইয়াকুবকে মুক্ত করে নিয়ে যায়। পাবনা জেলার চাটমোহর থানা এলাকার সাইফুল ইসলামও ওই দলে ছিলেন।

থানা লুটের পর চরমপন্থিরা বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে হাটের মধ্যে দিয়ে চলে যায়। তাদের একটি গ্রুপ থানার পাশে টেলিফোন অফিসের সেন্ট্রাল কমান্ডও বিকল করে দেয়। পরে ওই ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় দুটি মামলা হয়।

র‌্যাব বলছে, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা সাইফুল তার আট ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। ১৯৮৪ সালে তিনি চরমপন্থি নেতা তারেকের মাধ্যমে সর্বহারা দলে যোগ দেন।

১৯৮৮ সালে চাটমোহর থানার খোতবাড়ি এলাকায় মাঠের মধ্যে চরমপন্থিদের দুটি দলের মধ্যে গোলাগুলি হয়। ওই ঘটনায় নকশালপন্থি চরমপন্থিদের ১২ জন নিহত হয়। সেই ঘটনাতেও সাইফুল জড়িত ছিলেন।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাটমোহরের ঘটনার পর পলাতক সাইফুল ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে স্ত্রীর সাথে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তর হন। সে সময় তাকে এবং গ্রেপ্তার অন্য চরমপন্থিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গুরুদাসপুর থানার অস্ত্র লুটের ঘটনার তারাই জড়িত ছিলেন।

থানা লুট, ১২ হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলা ছিল সাইফুলের নামে। এসব মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পালিয়ে যান।

সাইফুল পলাতক থাকা অবস্থায় থানা লুট এবং পুলিশ হত্যা মামলার রায় হয় ২০০৭ সালে। তাতে তার যাজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

র‌্যাব বলছে, ২০০৪ সালে চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে তারেকের নির্দেশে চরমপন্থিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন সাইফুল রাজধানীতে চলে আসেন এবং কিছুদিন পরিবহন শ্রমিকের কাজ করেন।

পরে তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় এক আত্মীয়র বাসায় আশ্রয় নেন। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় তিনি চাকরি পান।

‘সাইফুল প্রধান’ নামে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার ভোটার হিসেবে তিনি এনআইডিও তৈরি করে নেন। তবে সেখান তাকে মানুষ চিনত শ্রমিক সর্দার‘ছাত্তার’নামে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল বলেছেন, সর্বহারা নেতা তারেক নিহত হওয়ার পর দলের অন্যদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করে যায়। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে রূপগঞ্জেই তিনি বসবাস করে আসছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক