‘গ্যাঞ্জাম পার্টি’র ২ সদস্য কারাগারে

গায়ে ধাক্কা লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে ঝগড়া বাধিয়ে ছিনতাই করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Oct 2022, 04:31 PM
Updated : 5 Oct 2022, 04:31 PM

পরিকল্পিতভাবে ‘গ্যাঞ্জাম’ বাধিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একজন মহানগর হাকিম।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন- মো. আল রাজু (২৫) ও মো. সুমন খান (২৯)। মঙ্গলবার রাতে ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীম দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন আসামিদেরকে এ আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে মঙ্গলবার উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মোহসীন জানিয়েছিলেন রাতে পথচারী কিংবা গাড়িচালকদের সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে ঝগড়া লাগাত তারা। এরপর কৌশলে তাদের টাকা, পয়সা, মোবাইল, ল্যাপটপ ছিনিয়ে পালিয়ে যেত।

এ কৌশলের কারণে স্থানীয়দের কাছে তারা 'গ্যাঞ্জাম পার্টি' নামে পরিচিত উল্লেখ করে তিনি জানান, এর আগে একই অভিযোগে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা কারাভোগ করেন। কিন্তু জামিনে বের হয়ে এসে আবার একই কাজ করতে থাকেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায় , আসামি রাজুর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি গ্রুপ আছে। যে গ্রুপের কাজই কোনো টার্গেট ব্যক্তিকে প্রথমে ধাক্কা মারা। এরপর কেন তাকে ধাক্কা মারা হল? এ নিয়ে গ্যাঞ্জাম শুরু করে। পরে টাকা পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

ওসি মোহসীন জানান, রাজুর বাসা তুরাগ থানার ভাবনারটেক এলাকায়। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে এই গ্যাঞ্জাম পার্টির ‘হোতা’। আর সুমন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার রুস্তম আলী খানের ছেলে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজু ও সুমন লুৎফুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়া লাগান। লুৎফুর তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তার গাড়ির সামনে এসে রাজু বলেন, ‘আমাকে ধাক্কা দিলি ক্যান’।

এরপর দুজন মিলে লুৎফুরকে মারধর করে টাকা, মোবাইল ছিনিয়ে নিতে চাইলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পুলিশের টহল টিম তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে যায় এবং দুইজনকে আটক করে বলে জানান ওসি।

গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে থানায়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক