Published : 03 Aug 2022, 06:13 PM
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার সেলিম প্রধানের রুশ স্ত্রী তিন বছর পর রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসে আদালতে গিয়ে কথা বলেছেন স্বামীর সঙ্গে।
তিন বছর আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কারাগারে রয়েছেন সেলিম। দুদকের মামলায় বুধবার তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে সেখানে উপস্থিত হন তার স্ত্রী আনা প্রধান।
ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলাটির বিচার চলছে। বিচারক আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আদালত কক্ষেই স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন আনা।
পরে আনা সাংবাদিকদের বলেন, “আমি তিন দিন আগে এসেছি, এখন দেশেই থাকব। আমাদের সন্তান আছে।
“আমার স্বামীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই। আইনের মধ্যে থেকে ন্যায়বিচার চাই।”
সেলিম প্রধান ‘প্রধান গ্রুপ’ নামে একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান। এই গ্রুপের অধীনে পি২৪ গেইমিং নামের একটি কোম্পানি আছে, যার মাধ্যমে ক্যাসিনো ও অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা চলত।
২০১৯ সালে ঢাকার বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবে ক্যাসিনো বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সেলিম প্রধানকে ব্যাংককগামী একটি ফ্লাইট থেকে নামিয়ে এনে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরের মাসের ২৭ তারিখে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রে সেলিম প্রধানের ৫৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে এবং অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে সেলিম প্রধান ৫৭ কোটি ৪১ লাখ ৪৮ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এর মধ্যে ক্যাসিনো খেলে অর্জিত ২১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা পাচার করেছেন থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে।
গত বছরের ৩১ অক্টোবর আদালতে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। এরপর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।
বুধবার রেজাউল করিম নামে একজন ব্যাংকার আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাকে নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হল।
সেলিম প্রধান জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং পেপার্সেরও চেয়ারম্যান। এই কোম্পানিতে তার ৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ৬৯ হাজার শেয়ারের বিপরীতে এখানে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে ৬৯ লাখ টাকা।
তবে সেলিম প্রধানের নামে শেয়ার মানি ডিপোজিট ২৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫০ টাকা পাওয়া গেছে জানিয়ে দুদক বলছে, এই টাকা তিনি অর্জন করেছেন অবৈধভাবে।