বইমেলায় ছুটির দিনে ‘সর্বোচ্চ’ ভিড়, তিল ধারণের ঠাঁই নেই

এদিন মেলায় এসেছিলেন সোশাল মিডিয়ার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আইমান সাদিক ও মুনজেরীন শহীদ। তাদের ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকলে আশপাশের স্টলে বিক্রি বন্ধের উপক্রম হয়।

পাভেল রহমানবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Feb 2024, 05:06 PM
Updated : 16 Feb 2024, 05:06 PM

সর্বোচ্চ সংখ্যক দর্শনার্থী আর বই বিক্রির সন্তুষ্টি নিয়ে কাটল একুশে বইমেলার তৃতীয় শুক্রবার।

সকালে শিশুদের চঞ্চলতায় শুরু হওয়া মেলা সন্ধ্যায় রূপ নেয় জনসমুদ্রে, অতিরিক্ত জনচাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে কোনো কোনো স্টলের বিক্রয়কর্মীদের। তারকা লেখকদের কাউকে কাউকে ভিড়ের চাপের কারণে মেলা থেকে চলে যেতেও হয়েছে।

মেলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের মেলায় শুক্রবারই সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয়েছে। বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মীরা বলেছেন, বিক্রি নিয়েও তারা সন্তুষ্ট।

বইমেলা পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, শুক্রবার মেলায় এসেছিলেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৫ জন। মূলত মেলার সাতটি প্রবেশদ্বারের আর্চওয়ে থেকে এ পরিসংখ্যান পেয়েছে তারা।

শুক্রবার ছুটির দিন বইমেলা শুরু হয় বেলা ১১টায়, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এর মধ্যে বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর।

একুশ উদযাপনের অংশ হিসেবে সকালে বইমেলার মূলমঞ্চে হয় শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে আসা শিশুরাও মেলা ঘুরে প্রাণ ছড়ায় প্রাঙ্গণে।

সকালে মাঝারি জনচাপ থাকলেও বিকেল ৩টার পর থেকে বাড়তে থাকে সমাগম। সন্ধ্যায় মেলায় প্রবেশ করতেই হিমশিম খেতে হয় অনেককে। শাহবাগ থেকেই মানুষের জটলা দেখা যায়।

শাহবাগ থেকে পায়ে হেঁটে মেলায় পৌঁছাতে লাগে মিনিট দশেক। সন্ধ্যায় সেই পথ আধা ঘণ্টার বেশি লেগেছে বলে জানালেন কয়েকজন। টিএসসিতে 'আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসবেও' ভিড় জমেছিল।

সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ বলেন, "মেলায় সমাগম বেশ ভালো হয়েছে, বিক্রিও ভালো হয়েছে। এটাই বইমেলার চিরচেনা রূপ। সব মিলিয়ে জমজমাট মেলা।"

প্রথমা, অন্যপ্রকাশ, তাম্রলিপি, বাতিঘর, মিজান পাবলিশার্স, পার্ল পাবলিকেশন্সসহ অন্তত ১০ প্রকাশনা স্টলের বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, শুক্রবারের বিক্রিতে তারা সন্তুষ্ট।

এদিন সন্ধ্যায় তাম্রলিপির প্যাভিলিয়নে এসেছিলেন সোশাল মিডিয়ার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আইমান সাদিক ও মুনজেরীন শহীদ। তাদের ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকলে আশপাশের কয়েকটি স্টলেও প্রভাব পড়ে। সেলফি ও অটোগ্রাফ শিকারিদের ভিড়ে অন্য স্টলের বই বিক্রিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পরে তারা নিজেরাই মেলা থেকে চলে যান।

আইমান সাদিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "লোকজনের এত বেশি ভিড় হয়েছিল, এতে পাশের স্টল থেকে অভিযোগ আসছিল। তাই আমি আর মুনজেরীন চলে আসি।"

তিনি বলেন, "এখন মনে হচ্ছে ছুটির দিনে আর বইমেলায় আসা যাবে না। আসলে ছুটির দিন ছাড়া তো সময়ও মেলে না। কিন্তু আজকে এত বেশি মানুষ ছিলেন, তাছাড়া তাম্রলিপির প্যাভিলিয়নটিও মেলা মাঠের মাঝখানে হওয়ায় চাপ সামলানো কঠিন হয়েছে।"

মেলা পরিচালনা কমিটির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, এদিন তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ২৯৮টি।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ড. এম আবদুল আলীম, কথাসাহিত্যিক নাহার মনিকা, কবি স্নিগ্ধা বাউল এবং শিশুসাহিত্যিক অপু বড়ুয়া।

শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

সকাল ১০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে একুশে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব হয়। এতে ৩০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।

ক-শাখায় প্রথম হয়েছে ফারহিনা মোস্তাক আযওয়া, দ্বিতীয় হয়েছে অংকিতা সাহা রুদ্র এবং তৃতীয় হয়েছে ফাবলিহা মোস্তাক আরওয়া।

খ-শাখায় প্রথম হয়েছে সমৃদ্ধি সূচনা স্বর্গ, দ্বিতীয় হয়েছে সুবহা আলম এবং তৃতীয় হয়েছে অন্বেষা।

গ-শাখায় প্রথম হয়েছে সিমরিন শাহীন রূপকথা, দ্বিতীয় হয়েছে আবদুল্লাহ আল হাসান মাহি এবং তৃতীয় হয়েছে তাজকিয়া তাহরীম শাশা।

বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন আবৃত্তিশিল্পী ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, ডালিয়া আহমেদ এবং শাহাদাৎ হোসেন।

মূল মঞ্চ

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হয় স্মরণ: ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হারিসুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী, ফজিলাতুন নেছা মালিক এবং এস এম মোস্তফা জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন সুজন বড়ুয়া, মৌলি আজাদ, মাসরুরা লাকী, রিপন আহসান ঋতু এবং মমতাজ রহমান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন সোহরাব হোসেন, সাধন কুমার দাশ, দেবাশীষ রুদ্র, ফারহানা পারভীন হক তৃণা এবং নূরননবী শান্ত।

এছাড়া ছিল ফয়জুল্লাহ সাঈদের নির্দেশনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিল্পবৃত্ত’ ও ‘ঢাকা স্বরকল্পন’-এর পরিবেশনা এবং তাপস মজুমদারের পরিচালনায় ‘ইলা মিত্র শিল্পী সংঘ’-এর পরিবেশনা।

সংগীত পরিবেশন করেন মো. জাকির হোসেন হাওলাদার, শফি মণ্ডল, আরতি রানী সেন, দেবোরাহ জান্নাত, নিজাম উদ্দিন লালনী, রাজিয়া সুলতানা এবং মোসাঃ নিপা আক্তার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন আব্দুল আজিজ (তবলা), মো. বজরুল ইসলাম বিজু, (কী-বোর্ড), মো. হাসান আলী (বাঁশি), মো. হাসান মিয়া (বাংলা ঢোল) এবং শাওন আহমেদ (দোতারা)।

শনিবার যা থাকবে

শনিবার বইমেলার সপ্তদশ দিন। মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর।

সকাল ১০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হবে ‘স্মরণ: শহীদ সাবের’ এবং ‘স্মরণ: পান্না কায়সার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন যথাক্রমে মনির ইউসুফ এবং মামুন সিদ্দিকী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন গিয়াস উদ্দিন, সুভাষ সিংহ রায়, রতন সিদ্দিকী এবং শমী কায়সার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রামেন্দু মজুমদার।