‘দোগারি হিমাল’ জয়ে বাংলাদেশ-নেপাল যৌথ অভিযান

দুবারের এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত বললেন, দোগারি হিমালে কোনো অভিযান হয়নি, তাই এর পথঘাটও সম্পূর্ণ অজানা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Sept 2022, 12:03 PM
Updated : 23 Sept 2022, 12:03 PM

বাংলাদেশ-নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীতে সাড়ে ২২ হাজার ফুট উঁচু ‘দোগারি হিমাল’ শৃঙ্গে প্রথমবারের মত দুই দেশের পতাকা ওড়াতে অভিযানে যাচ্ছেন দুই দেশের আট পর্বতারোহী।

শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের চার অভিযাত্রীর হাতে দেশের পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

এ অভিযানে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন দুবারের এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত। বাকি তিন সদস্যের মধ্যে বাহলুল মজনু ও ইকরামুল হাসান একটি ৭০০০ মিটার উচ্চতার চূড়াসহ হিমালয়ের একাধিক পর্বতে আরোহণ করেছেন। আর রিয়াসাদ সানভী ভারতে পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নেপালে পর্বত আরোহণে অংশ নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশের তিন পর্বতারোহী নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। দলের চতুর্থ সদস্য ইকরামুল হাসান ‘গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইলে’ চলমান অভিযান স্থগিত রেখে কাঠমান্ডুতে এই দলে যোগ দেবেন।

আর চার সদস্যের নেপাল দলের নেতৃত্বে থাকছেন পর্বতারোহী ও গাইড মিংমা গ্যালজে শেরপা।

অভিযাত্রীরা আশা করছেন, প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে ২৮ দিনে তারা দোগারি হিমাল জয় করতে পারবেন। তবে ইতিহাসে এর আগে কেউ যে ওই শিখর জয় করেনি, এমনকি কোনো অভিযানও যে হয়নি, সে কথাও তারা বলছেন।

এম এ মুহিত বলেন, “দোগারি হিমালে কোনো অভিযান হয় নাই এবং এটার পথঘাট সম্পূর্ণ অজানা। অভিযান হলে মানুষ জানতে পারে যে বেইজক্যাম্প কোথায় হবে, কোন দিক দিয়ে যেতে হবে। কিন্তু যেহেতু এখানে কোনো অভিযান হয় নাই, সেহেতু আমরা কিছুই জানি না।

“এমনকি মিংমাও জানে না আসলে কোন দিক দিয়ে বেইজক্যাম্প হবে, কয়টা ক্যাম্প আমাদের তৈরি করতে হবে। সম্পূর্ণ অজানা। ওখানে গিয়ে আমাদের সবকিছু করতে হবে, কী কী হ্যাজার্ড, ওইখানে গিয়ে আমাদের বুঝতে হবে।”

২০১০ সালে চেকিগো পর্বতশৃঙ্গ জয়ের কথা স্মরণ করে মুহিত বলেন, “যে চূড়ায় গিয়েছিলাম, নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পিক, সেটা ছিল নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের (এনএমএ) চূড়া। ওখানে (চেকিগো) এর আগে ১৩টা অভিযান হয়েছিল, ১৩টাই ব্যর্থ হয়েছিল, আমরা প্রথম সফল হয়েছিলাম। কিন্তু সেবার আমাদের রুট জানা ছিল। এবার আমাদের কিছুই জানা নেই।”

এ অভিযান সফল হলে নেপাল বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন মুহিত।

“এই অভিযানের পরিকল্পনা গতবছর থেকে করছিলাম। আমার যে নেপালি বন্ধু, মিংমা গ্যালজে, তিনি বলছিলেন যে আমরা এরকম একটা কিছু করি যাতে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। মিংমাই বললো, এরকম একটা চূড়া বের করে আমি তোমাদের বলব।”

এ অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব ও ইমাজিন নেপাল। অভিযানের খরচ বহন করছে ইস্পাহানি টি লিমিটেড, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২৫ শতাংশ ছাড়ে অভিযাত্রীদের ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা বিমানের টিকেট দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী, ব্র্যাক চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং এমিরেটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

জিল্লুর রহমান বলেন, “নেপাল বাংলাদেশের ফ্রেন্ডশিপের ৫০ বছর পূর্তি পালনের জন্য এটা এক দারুণ উদযাপন। আমরা উদযাপন তো অনেকভাবে করি, কিন্তু এই ধরনের উদযাপন তো অন্যরকম। উদযাপন শুধুমাত্র হাসিখুশি একটা আনুষ্ঠানিকতার বিষয় না। এই পতাকা যখন দোগারি হিমালয়ের চূড়ায় বসাবেন, তখন আমাদের এই সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে।”

এ ধরনের অভিযানে যে প্রচণ্ড সাহস আর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়, সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পুনর্জাগরণের অন্যতম বিষয় হওয়া উচিত স্পোর্টস। স্পোর্টসকে অন্যভাবে চিন্তা করতে শুরু করা উচিত। আর ফিটনেসের দিকে আমাদের নজর দেওয়া উচিত। আপনি ফিট না হলে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন না।”

ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী বলেন, “এই উদযাপন নেপাল-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত করবে এবং সভ্যতাগত, সাংস্কৃতিক এবং ভাষাগত সংযোগও স্থাপন করবে।”

ইস্পাহানি টি লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) মোহাম্মাদ হারুন ও স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার ফজল মাহমুদ রনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক