ব্যবসায়ী নাসিরের মামলায় পরীমনির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির হননি।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রাহমান বুধবার এ আদেশ দেন বলে তথ্য দিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল।
বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির হননি। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত কারণে পরীমনি অসুস্থ। এই কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।
তবে আসামিপক্ষের আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
পরে আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে জামিন বাতিল করে পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, “অ্যালার্জিজনিত কারণে পরীমনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। আমরা তার পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আদালতে বেঞ্চ সহকারী জানান, চার্জের কোর্ট, টাইম পিটিশন থাকলে চলে যান। টাইম পিটিশন দিয়ে চলে আসি। পরে তো শুনলাম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কথা।”
২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়।
২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন আদালতে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন আদালতে হাজির হতে সমন জারি করে। ওই দিন আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।
গত বছরের গত ২৬ জানুয়ারি পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জুনাইদ।
সেদিন পরীমনি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে পরোয়ানা জারির পর দিনই আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি।
এরপর ২৭ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন দায়ের করেছিলেন এ চিত্রনায়িকা। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার ৯ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান খারিজ করে দিয়ে মামলা চলতে কোনো বাধা নেই মর্মে আদেশ দেন।
