Published : 27 Oct 2023, 06:52 PM
সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের চারুশিল্পীদের নিয়ে ‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শিল্পীসমাজ' শীর্ষক জাতীয় মোর্চার আত্মপ্রকাশ হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করে মোর্চার কমিটি ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির উপদেষ্টামণ্ডলী, জাতীয় কমিটি ও ১৪টি আঞ্চলিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাক আলভী ও অধ্যাপক ফরিদা জামানকে আহ্বায়ক এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয় জাতীয় কমিটিতে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যাপক নিসার হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বভুক্ত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই সাম্রাজ্যবাদীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
“তারা সংঘবদ্ধভাবে এদেশের প্রতিটি কাজে প্রতিটি সিদ্ধান্তে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করছে, বাধা প্রদান করছে, এমনকি আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে রোধ করার জন্য মানবতার শত্রু হিংস্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের পক্ষে প্রকাশ্য তৎপরতা চালাচ্ছে।”
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “জয়নুল-কামরুলের অনুসারী চারুশিল্পীরা দেশ এবং মানুষের কল্যাণে রঙ-তুলি-ক্যানভাস নিয়ে ১৯৫২ থেকে শুরু করে বাঙালির সকল ক্রান্তিকালে যেভাবে পথে নেমেছিল, আজ আবারও একই ভাবে পথে নামবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । এই লক্ষ্যে আমরা দেশের সকল চারুশিল্পীদের নিয়ে গঠন করছি ‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শিল্পীসমাজ’ নামে একটি জাতীয় মোর্চা।"
অধ্যাপক নিসার বলেন, দেশের একাধিক স্থানে দিনব্যাপী 'সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে শিল্প' শিরোনামে প্রতিবাদী শিল্পকর্ম আঁকা ও শিল্পকর্মের প্রদর্শনী সম্পৃক্ত করবে দেশের সকল চারুশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে।
“শিল্পীরা সাধারণ মানুষকে সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দোসরদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করবে, এটাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।"
সংবাদ সম্মেলনে ‘সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে শিল্প' শিরোনামে মাসব্যাপি কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
দেশের মোট ১১টি শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের সড়ক জুড়ে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের বিভিন্ন সময়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
কর্মসূচির মধ্যে আছে-
১. সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণচিত্রাঙ্কণ;
২. প্রত্যেক বিভাগের শিল্পীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কণ;
৩. বরেণ্য শিল্পীদের আঁকা লে-আউট অবলম্বনে বিশালাকৃতির ব্যানারচিত্র আঁকা;
৪. জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পাওয়া ও বিশ্বখ্যাত সাম্রাজ্যবাদবিরোধী পোস্টার প্রদর্শনী;
৫. জাতীয় পর্যায়ে আহ্বানের মাধ্যমে পাওয়া ও বিশ্বখ্যাত সাম্রজ্যবাদ বিরোধী কার্টুন প্রদর্শনী;
৬. সাম্রজ্যবাদীদের হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সৃজনশীল আলোকচিত্র প্রদর্শনী;
৭. শিল্পীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংহতি প্রকাশ;
৮. স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশিত দেশের গান ও গণসঙ্গীত পরিবেশন;
৯. দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ডদল/সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সঙ্গীতদল ও স্থানীয় লোকসংগীত দলের পরিবেশনা;
এ কর্মসূচিগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হবে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
বরিশাল অঞ্চলে ১০ নভেম্বর, খুলনা অঞ্চলে ১৩ নভেম্বর, ফরিদপুর অঞ্চলে ১৭ নভেম্বর, রাজশাহী অঞ্চলে ২০ নভেম্বর, বগুড়া অঞ্চলে ২৪ নভেম্বর, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২৭ নভেম্বর, সিলেট অঞ্চলে ১ ডিসেম্বর, কুমিল্লা অঞ্চলে ৪ ডিসেম্বর, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৮ ডিসেম্বর, খাগড়াছড়ি অঞ্চলে ১১ ডিসেম্বর এবং ঢাকা অঞ্চলে ১৫ ডিসেম্বর এসব কর্মসূচি থাকবে। সর্বশেষ কর্মসূচি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে।