নতুন জঙ্গি দলের হদিস, ছিল ‘হামলার পরিকল্পনা’

দলটির শীর্ষ নেতা জুয়েলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 08:26 PM
Updated : 7 Feb 2024, 08:26 PM

তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ (আল-জিহাদী) নামে নতুন একটি জঙ্গি দলের খবর দিয়েছে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)। তারা বলছে, আগামী বছর দেশে বড় হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গত দুই/তিন  মাস ধরে সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দলটির ‘শীর্ষ নেতা’ মো. জুয়েল মোল্লাসহ (২৯) মো. রাহুল হোসেন (২১) ও মো. গাজিউল ইসলাম (৪০) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার ঢাকার বারিধারায় এন্টি টেররিজম ইউনিট সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এটিইউ'র ডিআইজি (অপারেশন্স) মোহা.আলীম মাহমুদ বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান পরিচালনা করে জুয়েলকে বাগেরহাট থেকে, জয়পুরহাট থেকে রাহুলকে এবং রাজধানীর ভাসানটেক এলাকা থেকে গাজীউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।  জুয়েল এই সংগঠনের প্রধান, বাকি দুই জন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

তিনি বলেন, “সংগঠনটি ২/৩ মাস ধরে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল ২০২৪ সালে দেশে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা করা। গ্রেপ্তাররা সবাই আগে কোনো না কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিল। কিন্তু তারা নতুন লক্ষ্য নিয়ে একটি ব্যানারে সবাই নতুন করে একত্রিত হচ্ছিল।”

তারা সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি অর্থও সংগ্রহ করছিল জানিয়ে আলীম মাহমুদ বলেন, “এই অর্থ দিয়ে অস্ত্র কেনা সহকারে বোমা তৈরি সরঞ্জাম সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই অস্ত্র ও বোমা দিয়ে তারা বড় ধরনের জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ছিল।”

এরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নেতা জসীম উদ্দীন রহমানীর (বর্তমানে বন্দি) বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গি দলে ভেড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, “জুয়েল নিজেও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য ছিলেন। জসীম উদ্দীন রহমানীকেও কারাগার থেকে মুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল জুয়েলের।”

নতুন এই সংগঠনে ৮০ থেকে ৯০ জন সদস্য আছে বলে এটিইউ জানতে পেরেছে। তবে অর্থদাতা কে, তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে এটিইউ'র পুলিশ সুপার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, “নতুন জঙ্গি সংগঠনটির মূল পরিকল্পনাকারী জুয়েল মোল্লা নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীকালে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ৯ মাস কারাগারে ছিলেন। এই সময়ে কারাগারে বসেই নিজের একটি সংগঠন করার পরিকল্পনা করেন।”

এটিইউ জানায়, জুয়েল মোল্লা একটি বেকারির কর্মী ছিলেন। রাহুল একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। বোমা হামলার অর্থ জোগাতে নিজের জমি বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রাহুল।

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)