০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার দ্রুততম সময়ে: শ্রমমন্ত্রী

“যেই ছেলেটা মারা গেছে তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছি, যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অবশ্যই আইনের আওতায় এনে তাদের বিচার করা হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 10:19 PM

Updated : 04 Nov 2026, 10:19 PM

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের সময় গাজীপুরে আহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক শেখের হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার কথা বলেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সচিবালয়ে বুধবার এক বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “আমরা শ্রমিকবান্ধব সরকার। যেই ছেলেটা মারা গেছে তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছি, যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অবশ্যই আইনের আওতায় এনে তাদের বিচার করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে বলে দেওয়া হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবারই শ্রমিকদের জন্য গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি ১০০ সজ্জা হাসপাতাল করার অনুমোদন দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালটি বিশেষিত শ্রমিকদের জন্য। কাজেই একটা স্টার্ট তো করেছি ভাই। এর আগে তো কোনও সরকার করে নাই। মুখে অনেকটাই বলেছে। প্রধানমন্ত্রী সামারি লিখে আজকে অনুমোদন করে আমার কাছে পাঠিয়েছেন।

"কিন্তু যাদের জন্য করব, তাদেরকে যাতে অন্য কোন… যারা রাষ্ট্রকে অস্থীতিশীল করতে চায়, যারা এই শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়, যারা সারা বিশ্বে এই পোশাক খাতকে আমাদের এখান থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করে, এটা তাদেরই একটি অংশ।”

পোশাক শ্রমিকদের জন্য তিন দিনের মাথায় মজুরি বোর্ডের বৈঠকের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও মালিকপক্ষ থেকে যে বক্তব্যগুলো আহ্বান করা হয়েছে; আমাদের শ্রমিক ভাইদের প্রতি আমি আহ্বান করব আপনারা কলকারখানায় কালকে ফিরে যান। আপনাদের সমস্ত বিষয়, যেটুকু দাবি করেছেন সরকারের পক্ষ থেকে সেই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আপনাদের বোর্ড বসছে। বোর্ডে আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ। আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে।

“আমাদের এই কালচার থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে হবে। শিল্প যদি বাঁচে আয় বাড়ে। আয় যখন বাড়বে মজুরিও তখন বাড়বে, উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান হবে। তাহলে আপনার মজুরি দিতে তো আপত্তি নাই।”

মালিকপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মালিকদের বলব, যারা মিল কারখানা ছুটি দিয়ে দিচ্ছেন, তারাও যেন খুলে এটা স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যান। সরকারের পক্ষ থেকে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তার দিক থেকে শুরু করে সব বিষয়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি।

“আসুন সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। দেশ সামনের দিকে যাক। শিল্প কারখানা আরও বেশি উন্নত এবং যারা ষড়যন্ত্রকারী এদের আমরা চিহ্নিত করে রাখি।”

পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার গাজীপুর নগরীর জয়দেবপুর থানার বাহাদুরপুর এলাকায় সংঘর্ষের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারনের সময় আন্দোলনকারীদের লাঠি ও ইটের আঘাতে পোশা শ্রমিক তৌফিক মাথায় আঘাত পান। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবিবর রহমান তবির ছেলে ও ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বুধবার সকালে ছয়ঘরিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।

পুরনো খবর:

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন: গাজীপুরে আহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক মারা গেছেন