০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন পরীমনি

ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বুধবার পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়।

বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন পরীমনি

পরীমনি, ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 09:25 AM

Updated : 05 Nov 2026, 09:25 AM

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, “আশা করছি, আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন।”

ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান বুধবার পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির হননি। তার পক্ষে আইনজীবী সুরভী সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, `অ্যালার্জিজনিত কারণে অসুস্থ থাকায়’ পরীমনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।

অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল এর বিরোধিতা করে পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, আসামি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

পরে আদালত আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়। সেই সঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করে।

২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে মামলাটি করেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি এবং তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের ‘সত্যতা পাওয়ার’ কথা বলা হয়।

ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে। নির্ধারিত দিনে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।

২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৎকালীন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুনাইদ।

সেদিন পরীমনি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তবে পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

এরপর ২৭ মার্চ অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন আবেদন করেন পরীমনি। ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান আবেদনটি খারিজ করে দেন। ফলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলতে আর কোনো বাধা থাকেনি।

ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমনি ২০২১ সালে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তার অভিযোগ, ওই বছর ৮ জুন রাতে সাভারের বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ করা হয়।

পরে পরীমনি মামলা করলে ব্যবসায়ী নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাসির তখন ছিলেন ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

পরীমনির দায়ের করা মামলার বিচার চলাকালে জামিনে থাকা অবস্থায় নাসির উদ্দিন ২০২২ সালের ৬ জুলাই পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাল্টা এই মামলা করেন।

মামলার আরজিতে বলা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা সেদিন ক্লাবে ঢুকে মদ পান করে অর্থ পরিশোধ না করেই যেতে চাচ্ছিলেন। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পরীমনি একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন নাসিরের দিকে এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় এবং বুকে আঘাত পান।

নাসিরের দাবি, সেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরীমনি সাভার থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

অন্যদিকে সাভার থানায় পরীমনির করা মামলায় অভিযোগ ছিল, ৮ জুন রাতে তাকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ বোট ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নাসির তাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ ও মারধর করেন।

ফলে বোট ক্লাবকাণ্ডে পরীমনি ও ব্যবসায়ী নাসির দুজনই এখন বিচারের মুখামুখি।