বইমেলার সকালটা শিশুদের, সন্ধ্যায় জনসমুদ্র

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, দ্বিতীয় দিন মেলায় নতুন বই এসেছে ৩১টি।

পাভেল রহমানবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Feb 2024, 02:32 PM
Updated : 2 Feb 2024, 02:32 PM

প্রথম শিশুপ্রহরের সকালটা শিশুদের কলকাকলিতে মুখর বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলা বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই যেন রূপ নেয় জনসমুদ্রে। শত শত মানুষের ভিড়ে মেলায় দেখা যায় প্রাণের জোয়ার। কেউ এসেছেন স্বপরিবারে, কেউবা বন্ধুদের নিয়ে। তবে বই বিক্রির ধুম লাগেনি এখনো।

প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাধারণত বইমেলা গুছিয়ে উঠতে প্রথম দুই-তিনদিন চলে যায়। কিন্তু এবার মেলার দ্বিতীয় দিনই শুক্রবার হওয়ায় প্রথম থেকেই লোক সমাগম হচ্ছে।

“প্রথম সপ্তাহে বই বিক্রি৷ সাধারণত কমই হয়। নতুন বইও সব মেলায় আসতে প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে যায়। তবে এবার প্রথম থেকেই জমে উঠেছে মেলা। কয়েকদিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সব বই মেলায় চলে আসবে।”

বৃহস্পতিবার মেলা শুরুর পর রাতের বৃষ্টি কিছুটা চিন্তায় ফেলেছিল প্রকাশকদের। তবে বৃষ্টি যেন অনেকটা আশির্বাদ হয়েই আসে। বৃষ্টির কারণে শুক্রবার মেলায় ছিল না ধুলার বিড়ম্বনা। আগের দিন যেসব স্টল ছিল অগোছালো, তাও রাতের মধ্যেই অনেকটা গুছিয়ে নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে বইপ্রেমীদের অপেক্ষা শুরু হয় প্রকাশকদের।

এদিন মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায়। বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর। ছুটির দিনে শিশুচত্বরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সিসিমপুরের জনপ্রিয় চরিত্র হালুম, টুকটুকি, ইকরি, শিকু।

শিশুচত্বরে ঘাসফড়িং প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারী রত্না দাশ বলেন, “আমরা ৩-৫ বছর বয়সী শিশুদের বিবেচনায় নিয়ে একটা বই এনেছি। এতে ছবি দেখতে দেখতেই অনেক কিছু শিখতে পারবে শিশুরা।”

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, দ্বিতীয় দিন মেলায় নতুন বই এসেছে ৩১টি। বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে শেখ হাসিনার সম্পাদনায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান রচনাবলী’। জার্নিম্যান বুকস থেকে চিত্রশিল্পী রফিকুন নবীর সম্পাদনায় প্রকাশ হয়েছে তার বাবা রশীদুন নবীকে নিয়ে একটি বই। 

পাঠক সমাবেশ এনেছে কামাল চৌধুরীর ‘কবিতার অন্বেষণ কবিতার কৌশল’ এবং স্বকৃত নোমানের ‘বাংলায় ইসলাম সহজিয়া ও রক্ষণশীল ধারা’।

প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য এনেছে সাক্ষাৎকার গ্রন্থ ‘অবারিত জীবন’ (অ্যান ওপেন লাইফ)। জোসেফ ক্যাম্পবেল ও মাইকেল টমসের মিথ-আলাপন অনুবাদ করেছেন রিফফাত সামাদ। এই সাক্ষাৎকার গ্রন্থে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম মিথ-গবেষক জোসেফ ক্যাম্পবেল মানবজীবন এবং মিথের মধ্যে অভ্যন্তরীণ যোগসূত্রটি অন্বেষণ করেছেন। এছাড়া তারা এনেছে সুকান্ত-রচনাবলি, আফতাব হোসেনের লেখা ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘বখতিয়ার’। কবি সৈয়দ শামসুল হকের ৭ম প্রয়াণবার্ষিকী স্মরণে তার সহধর্মিণী কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হকের স্মৃতিচারণামূলক লেখা ‘ফুলের গন্ধের মতো থেকে যাবে আমার রুমালে’ এসেছে।

ঐতিহ্য জানায়, মেলায় ৬টি নতুন রচনাবলি এবং ৪৮টি বিষয়ের উপর ২৩০টির বেশি বই পাওয়া যাবে তাদের স্টলে।

মূল মঞ্চ

বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: মহাকবি আলাওল’ শীর্ষক আলোচনা। এখানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইমন জাকারিয়া। আলোচনায় অংশ নেন মিল্টন বিশ্বাস এবং মোহাম্মদ শেখ সাদী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. আবুল কাসেম।

পরে সাংস্কৃতিক আয়োজনে কবিতা পাঠ করেন কবি রুবী রহমান, আসাদ মান্নান ও মাহবুব সাদিক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন লায়লা আফরোজ, মুস্তাফা ওয়ালিদ ও মজুমদার বিপ্লব।

এছাড়া ছিল আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ লোকসংগীত পরিষদ’ এবং মো. শাহাদাৎ হোসেনের পরিচালনায় ‘বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের’ পরিবেশনা। 

সংগীত পরিবেশন করেন তিমির নন্দী, মহিউজ্জামান চৌধুরী, প্রিয়াংকা গোপ, জুলি শারমিলি এবং মানিক রহমান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), এ কে আজাদ মিন্টু (কী-বোর্ড), মো. ফারুক (অক্টোপ্যাড) এবং রিচার্ড কিশোর (গীটার)।  

শনিবার যা থাকবে

বইমেলার তৃতীয় দিন শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর।

বিকাল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে অহবে ‘দ্বিশত জন্মবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি: মাইকেল মধুসূদন দত্ত’ আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রফিকউল্লাহ খান। আলোচনায় অংশ নেবেন খসরু পারভেজ ও হোসনে আরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মুহম্মদ নূরুল হুদা।