২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বইমেলায় কমিশন ‘বাড়ানোয়’ ক্ষোভ, বাংলা একাডেমি বলছে সিদ্ধান্ত হয়নি

বাংলা একাডেমির পরিচালক ও বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বেশি কমিশন দেওয়ার বিষয়ে বইমেলা পরিচালনা কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বইমেলায় কমিশন ‘বাড়ানোয়’ ক্ষোভ, বাংলা একাডেমি বলছে সিদ্ধান্ত হয়নি

শিক্ষার্থীর কাছে ৩০ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি।

পাভেল রহমান পাভেল রহমান

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jan 2024, 06:39 PM

Updated : 23 Jan 2024, 06:39 PM

বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলায় বিগত বছরগুলোতে ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করা হলেও এবার শিক্ষার্থীরা ৩০ শতাংশ কমিশনে বই কিনতে পারবে বলে একটি বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর পর উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

তবে মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি বলছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

মূলত, যে বিজ্ঞপ্তিটি ছড়িয়েছে, তাতে বাংলা একাডেমির পরিচালক ও বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলামের সাক্ষর থাকায় তৈরি হয়েছে ‘বিভ্রান্তি’।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্ব স্ব পরিচয়পত্র প্রদর্শনপূর্বক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত কমিশনের অতিরিক্ত ৫% কমিশন অর্থাৎ ৩০% কমিশনে বই ক্রয়ের সুবিধা প্রদান করবে।”

বিজ্ঞপ্তিটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনা।

পেন্ডুলাম পাবলিশার্সের ‍রুম্মান তার্শফিক বিজ্ঞপ্তিটি ফেইসবুকে শেয়ার করে লিখেছেন, “আর একটু কমিশন বাড়িয়ে সরকারি ক্রয়ে ছাড়ের মতো ৩৫% বই বিক্রির নির্দেশ দিলেই ল্যাটা চুকে গেলো। অবশ্য মহাশয়গণ চাইলে স্টুডেন্ট আইডি দিয়ে ২৫% ছাড়, আর সাধারণের জন্য ৫% কমিয়ে ২০% এ আনলে খুব ক্ষতি হতো না।”

Image

এ বছরের বইমেলার প্রস্তুতি চলছে। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একুশে বইমেলার স্টলে রং করছেন এ শ্রমিক।

লেখক জাহিদ সোহাগ ফেইসবুকে লিখেছেন, “বাংলা একা‌ডে‌মি খুবই সে‌ক্সি, ৫% ক‌মিশন বা‌ড়ি‌য়ে দু‌টি মহৎ কম্ম কর‌ছে এক- শিক্ষার্থীরা হু হু ক‌রে বই কিন‌বে, দুই- প্রকাশক‌দের কুহু কুহু ব‌্যবসা হ‌বে। কিন্তু কাগ‌জের অস্বাভা‌বিক মূল‌্য চির‌দিন স্থির থাক‌বে। কারণ, এটা কাগজ ব‌্যবসা‌য়ীদের ব‌্যাপার, একা‌ডে‌মির কী করার আছে।  প্রকাশক‌দের বরং অনু‌রোধ করা যায়, তারা কথা শো‌নে, তারা তো অগ্নিযু‌গের সমাজকর্মী। ত‌বে সরকা‌রি প্রজে‌ক্টে গা‌য়ের মূ‌ল্যে বই কেনার দা‌বি কর‌তে নেতারা নিশ্চয়ই শরম পা‌বেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি ভাইরাল কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করব না। মেলার অন্যান্য কাজ নিয়ে খুবই ব্যস্ত, এই বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় হাতে নেই।”

বিজ্ঞপ্তিতে তার সাক্ষর থাকার বিষয়টি জানানো হলে মোজাহিদুল ইসলামের ভাষ্য, “সেটি কিভাবে হয়েছে, এখন গোয়েন্দাদের দিয়ে খুঁজে বের করতে হবে। অভ্যন্তরীণ অনেক চিঠিতেই তো আমার স্বাক্ষর থাকে। কিন্তু অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত হলে সেটি প্রকাশ করার একটা প্রক্রিয়াও আছে।

“তবে হ্যাঁ, শিক্ষার্থীদের জন্য কমিশন বাড়ানোর একটা ব্যাপার বইমেলা পরিচালনা কমিটির অভ্যন্তরীণ বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

এবারও অন্যান্য বছরের মতো বইমেলায় যথারীরিত ২৫% কমিশনেই বই বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি।

Image

চলছে এ বছরের একুশে বইমেলার প্রস্তুতি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার স্টলের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকেরা।

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি ও পুথিনিলয় প্রকাশনীর কর্ণধার শ্যামল পাল বলেন, শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি কিভাবে আগ্রহ বাড়ানো যায়, সেটা নিয়ে একটা বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল।

“তখন এ ব্যাপারটি আলোচনায় এসেছিল যে, বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মেলায় দর্শনার্থী কম থাকে, এই সময়টায় যদি বিভিন্ন স্কুল-কলেজকে যুক্ত করা যায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাক বা আইডি কার্ড দেখালে ওই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ মূল্যছাড় রাখা যায় কিনা। পরে সেটি আর সিদ্ধান্ত হয়নি।”

নিয়মিত কমিশন ২৫% থেকে কমিয়ে ২০% করার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছিল বলে জানান শ্যামল পাল।

সময় প্রকাশনের স্বত্ত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ অবশ্য মনে করেন, কমিশন নয় বরং বইয়ের দাম অন্তত ৩০ শতাংশ কমিয়ে ভালো বই প্রকাশ করলেই পাঠক আগ্রহী হবে।

সৃজনশীল প্রকাশনার অস্তিত্ব রক্ষায় এবারের বইমেলা থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

ফরিদ আহমেদ বলেন, “কাগজের দাম বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই প্রকাশনা শিল্প এখন সংকটের মধ্যে রয়েছে। এরপর বইমেলায় ২৫ শতাংশ বাধ্যতামূলক কমিশন থাকার প্রভাব সারা বছরই থাকে, যেহেতু আমার সৃজনশীল বইয়ের বাজার অনেকটাই একুশের বইমেলা দ্বারা প্রভাবিত। ক্রেতারা সারা বছরই বই কিনতে এসে কমিশন চান, যেসব প্রকাশক কমিশন দিতে চায় না তারাও বাজারের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে কমিশন দেন।

“ক্রেতাকে ২৫ বা ৩০ শতাংশ কমিশন দেওয়া হলে পরিবেশককে দিতে হয় ৪০ শতাংশ কমিশন। লেখকদের রয়্যালিটি দিতে হয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। তাহলে প্রকাশকের হাতে থাকে কত? এ কারণে বইয়ের মুদ্রিত মূল্য বেশি রাখতে বাধ্য হন অনেক প্রকাশক। তাই মুদ্রিত মূল্যে বই বিক্রি করা উচিত। বইয়ের দাম অন্তত ৩০ শতাংশ কমিয়ে ভালো বই প্রকাশ করলেই পাঠক বই পাঠে আগ্রহী হবে।”