বঙ্গবন্ধুর ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি নিলেন মেয়ে শেখ হাসিনা

“যে বিশ্ববিদ্যালয়কে আবর্তন করে বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটিয়ে দেশ ও জাতির ভাগ্য উন্নয়নে জাতির পিতা উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর করার মধ্য দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সর্বোত্তম উপায় বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি,” বলেন উপাচার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Oct 2023, 08:40 AM
Updated : 29 Oct 2023, 08:40 AM

বিশেষ সমাবর্তনের আয়োজন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মরণোত্তর সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ দিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

রোববার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এই ডিগ্রি তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, “জাতির পিতার প্রতি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিমেয় ঋণ রয়েছে। তার দায় স্বীকারের অংশ হিসেবে তার জন্য নিবেদিত এই মহতী সমাবর্তন। তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ প্রদান করতে পেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত।”

বাঙালির মুক্তির মহানায়ক শেখ মুজিব এক সময় এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় পাকিস্তান আমলে তাকে বহিস্কার করেছিল কর্তৃপক্ষ। ৬১ বছর পর ২০১০ সালে সেই আদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

উপাচার্য বলেন, “বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, প্রতিশ্রুতিশীল মন-মানস, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, চারিত্রিক উৎকর্ষ এসবের এক অপূর্ব সম্মিলন আমরা দেখতে পাই বঙ্গবন্ধুর কিংবদন্তিতুল্য জীবন ও কর্মে।

“যে বিশ্ববিদ্যালয়কে আবর্তন করে বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটিয়ে দেশ ও জাতির ভাগ্য উন্নয়নে জাতির পিতা উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর করার মধ্য দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সর্বোত্তম উপায় বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

ঢাকার পূর্বাচলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, বিশ্বের একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে শতবর্ষীএই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এর গবেষণা অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস অপরিহার্য।

“যুগান্তকারী মৌলিক গবেষণার জন্য নানা যৌক্তিক কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসে সে ধরনের গবেষণাগার স্থাপন করা অসম্ভব বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সেজন্য পূর্বাচলে রাজউক কর্তৃক বরাদ্দকৃত ৫২ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও উদ্ভাবন ক্যাম্পাসের জন্য প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখিত জমির চূড়ান্ত বরাদ্দ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ নির্দেশনা বিশেষভাবে প্রত্যাশা করছি।”

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি অনুষ্ঠানে বলেন, “পিতার সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। অন্য সকল ক্ষেত্রের মত শিক্ষায়ও পিতা মুজিবের দর্শন ও ভাবনার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন কন্যা। পিতার মতই তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের ভাগ্য ভবিষ্যত ছাত্রসমাজের ওপর নির্ভর করে। অসীম সাহসী নেতা হিসেবে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার সাহস রাখেন ঠিক পিতার মত।

“আজকে সেই পিতাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ প্রদান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ধন্য, ধন্য বাংলাদেশ।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পিতার সততা, সাহস, দেশপ্রেম, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা আর মানুষের প্রতি অসীম ভালোবাসার পথ ধরে একই গুণাবলী নিয়ে আজ তিনি দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন দৃপ্ত পায়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্মার্ট বাংলাদেশ ও সোনার বাংলাদেশের লক্ষ্য পানে। তাই সবাইকে থাকতে হবে তার পাশে, অব্যাহত রাখতে হবে এ অগ্রযাত্রা। আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করি সকল অপশক্তিকে।

এই বিশেষ সমাবর্তনে সমার্তন বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন। সঞ্চালনা করেন রেজিস্টার প্রবীর কুমার সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অ্যালামনাই, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, অতিথিসহ প্রায় ১৮ হাজার ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন বিশেষ সমাবর্তনে।

১৯২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবার সমাবর্তন হয়। এবার হল ৫৪তম সমাবর্তন।

বঙ্গবন্ধুর আগে মোট ৫৩ জন ব্যক্তিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টর অব লজ ডিগ্রি দিয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায়, শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের ঘরে।

বাবা-মা আদর করে ডাকতেন ‘খোকা’ বলে। এই খোকাই কালে হয়ে ওঠে ইতিহাসের মহানায়ক।

গত শতকের সেই ৩০ এ দশকে স্বদেশী আন্দোলন দেখে ইংরেজবিরোধী মনোভাব জেগে ওঠে বালক শেখ মুজিবের মনে। পরে কংগ্রেস-মুসলিম লীগ বিভাজনে মুসলিম লীগের প্রতি ঝুঁকে পড়েন তিনি, আর এক্ষেত্রে প্রভাব রেখেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল, মিশনারি স্কুলে পড়াশোনার সময়ই রাজনীতির দীক্ষা হয়ে যায় শেখ মুজিবের। স্কুলে পড়াকালেই ‘মুসলিম সেবা সমিতির’ সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন। সমিতির পক্ষ থেকে মুসলমান বাড়ি থেকে সংগৃহীত মুষ্টিভিক্ষার চাইলের অর্থ দিয়ে গরিব ছাত্রদের পড়ালেখা অন্যান্য খরচের জোগান দেওয়া হত।

১৯৩৮ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক ও শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর গোপালগঞ্জ সফরে তাদের সংবর্ধনা দেন শেখ মুজিব।

শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়েও সোচ্চার ছিলেন তিনি। তখনই সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে তার যোগাযোগের শুরু। পরে বেঙ্গল মুসলিম ছাত্রলীগ গোপালগঞ্জ মহকুমার সম্পাদক হন। অল বেঙ্গল মুসলিম ছাত্রলীগের ফরিদপুর জেলা ও প্রাদেশিক কাউন্সিলরও হন তিনি। বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ১ বছরের জন্য ১৯৪১ সালে। ওই বছরই তিনি দুই বার সাময়িকভাবে গ্রেপ্তার হন।

১৯৪২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ) ভর্তি হন শেখ মুজিব। তার রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে থাকে। কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন ১৯৪৬ সালে। ১৯৪৭ সালে এই কলেজ থেকেই তিনি স্নাতক ডিগ্রি নেন।

ভারত এবং পাকিস্তানের পাশাপাশি তৃতীয় রাষ্ট্র হিসেবে বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৪৭ সালে সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন শেখ মুজিব। এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে এটাই তার স্বপ্নের রাষ্ট্র গড়ার ভিত্তি গড়ে দেয়।

ভারত ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন শেখ মুজিব; প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ, সোচ্চার হন পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে।

উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার জন্য মুসলিম লীগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ান শেখ মুজিব; রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ধর্মঘট পালন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন, পরে ছাড়াও পান।

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে নেমে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৫২ সালের ভাষাআন্দোলনে নানা দিক-নির্দেশো দেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (বর্তমান আওয়ামী লীগ) গঠন হলে কারাগারে বন্দি অবস্থাতেই যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ মুজিব। এর মধ্যদিয়ে বিকশিত হতে থাকে তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক সরকারের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত শেখ মুজিব সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন; যদিও এক বছরও সেই সরকারকে থাকতে দেয়নি পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী।

অসাম্প্রদায়িক শেখ মুজিব ১৯৫৫ সালে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে 'আওয়ামী লীগ' করতে মূল ভূমিকা পালন করেন। আর এই আওয়ামী লীগই হয়ে ওঠে তার ধ্যান-জ্ঞান। যার জন্য পরে আবার প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী হলেও দলকে সুসংহত করার উদ্দেশ্যে মাত্র নয় মাস পরর পদত্যাগ করেন তিনি।

এরপর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনে কারাগারেই কাটাতে হয় শেখ মুজিবকে; কিন্তু তা বাঙালির নেতা হিসেবে তার ভিত্তি আরও মজবুত করে তোলে। এই সময় ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

ষাটের দশকে বাঙালির রাজনৈতিক সংগ্রাম তুঙ্গে উঠলে তার অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন শেখ মুজিব। ১৯৬৬ সালে বাংলার শোষণ-বঞ্চনার অবসান দেন ৬ দফা, যা তখন জাতীয় মুক্তির সনদ হিসেবে গ্রহণ করে বাঙালি।

এই ছয় দফা বাঙালি জাতির জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির বীজ যেমন বুনে দেয়, তেমনি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের গোড়ায় হানে আঘাত।

ছয় দফার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে উঠলে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী প্রথমে বন্দি করে শেখ মুজিবকে; এরপর করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’।

কিন্তু শেখ মুজিবের মুক্তি দাবিতে দেশব্যাপী শুরু হয় তীব্র ছাত্র গণআন্দোলন, যাতে ভিত কেঁপে ওঠে আইয়ুব শাহীর।

১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ রাজবন্দিরা মুক্তি পেলে পরদিন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে লাখো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে।

স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে ধীরে ধীরে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে চালিত করতে থাকে বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ নেতৃত্ব। ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক জনসভায় পূর্ব পাকিস্তানের নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখেন তিনি।

১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয় তাকে কেন্দ্রীয় সরকারে বসার দাবিদার করলেও তা হতে দেয়নি পাকিস্তানিরা। যার ফলে নতুন দেশ গড়ার নিজের লালিত স্বপ্নের দিকে এগোতে থাকেন বঙ্গবন্ধু।

আওয়ামী লীগের ক্ষমতারোহন ঠেকাতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে ফুঁসে ওঠে বাঙালি।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পায় গতি; কার্যত ১ মার্চ থেকে তার নির্দেশেই চলতে থাকে পূর্ব পাকিস্তান।

পাকিস্তানিদের নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসমুদ্রে হাজির হন বঙ্গবন্ধু; বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতিতে নামে বাঙালি; অন্যদিকে পাকিস্তানিরাও চরম আঘাত হানার পরিকল্পনা নেয়।

২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু।

পাকিস্তানি বন্দি বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে তার নেতৃত্বেই চলে স্বাধীনতার সংগ্রাম। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন, নয়াদিল্লী হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরার পর পূর্ণতা পায় বাঙালির স্বাধীনতা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে জাতির পিতা নামলেও ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি, তা চলতে থাকে দেশে এবং দেশের বাইরে।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ মুজিব, কয়েক বছর পর ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করে প্রেসিডেন্ট হন তিনি। ওই বছরই ১৫ অগাস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অন্ধকার রাত আসে, যাতে বাঙালি হারায় জাতির পিতাকে।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার গোটা পরিবারকেই হত্যা করেছিল খুনি ওই সেনা সদস্যরা; বিদেশে থাকায় বেঁচে যান দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।