১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফসলি জমি থেকে বালু তোলার পথ বন্ধ হচ্ছে

সংশোধিত আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বালু উত্তোলনের যন্ত্রপাতি জব্দ করতে পারবেন।

ফসলি জমি থেকে বালু তোলার পথ বন্ধ হচ্ছে

ফাইল ছবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jun 2023, 06:14 PM

Updated : 19 Jun 2023, 06:14 PM

ফসলি জমি থেকে বালু তোলা বন্ধ করতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

সভা শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনায় ২০১০ সালের একটি আইন আছে। ২০১১ সালে এ সংক্রান্ত একটি বিধিমালাও করা হয়।

আগের আইনের কিছু সংশোধন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যেসব এলাকা থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ ছিল, সেখানে ফসলি জমি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এখন ফসলি জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

“কোনো ফসলি জমি থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। তিন ফসলি জমি ও টপ সয়েল (জমির উপরিভাগের মাটি) নষ্ট হতে পারে, এমন সম্ভবনা থাকলে বালু তোলা যাবে না।”

অভ্যন্তরীণ নদী পথের নাব্য বিনষ্ট করতে পারে, এমন হুমকি থাকলে সেখানকার বালু বা মাটিও তোলা যাবে না বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

আগে শুধু বিআইডব্লিউটিএর হাইড্রোগ্রাফিক জরিপকেই ভিত্তি ধরা হত জানিয়ে মাহবুব বলেন, এখন আইন সংশোধন করে বলা হচ্ছে, বিআইডব্লিউটিএর হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যদি কোনো জরিপ থাকে, সেটাকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে যন্ত্রপাতি জব্দ করতে পারতেন না। আইন সংশোধন করে ম্যাজিস্ট্রেটরা যাতে যন্ত্রপাতি জব্দ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

আইন সংশোধন হওয়ার পর বালুর ইজারা কার্যক্রম অনলাইনে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো কারণে ইজারা দেওয়া না গেলে খাস আদায়ের মাধ্যমেও এটি করা যাবে। বালু পরিবহনের কারণে রাস্তার বা স্থাপনার ক্ষতি হলে সেটি ইজারাদারকে পরিশোধ করতে হবে।

বালু উত্তোলন নিয়ে আগের আইনে যেসব শাস্তির বিধান ছিল, সেগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।